আইপিএল ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে পঞ্জাব কিংসের পরাজয়ের পর, ক্রিকেট মাঠের বাইরের একটি ঘটনা এখন সমাজমাধ্যমে তুমুল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পঞ্জাবের তারকা পেসার অর্শদীপ সিং এবং মুম্বাইয়ের বিধ্বংসী ব্যাটার তিলক বর্মার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। যেখানে অর্শদীপকে মজার ছলে বা অসতর্কতাবশত তিলককে “ওরে অন্ধ” (ওয়ে অন্ধেরে) বলে ডাকতে শোনা গেছে। আর এই একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এখন নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
জানা গেছে, ধরমশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তের ঘটনা এটি। ভিডিওটি সামনে আসতেই ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ অর্শদীপের ভাষার ব্যবহার নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরের একজন ক্রিকেটারের প্রকাশ্য মঞ্চে বা ক্যামেরার সামনে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।
যদিও অর্শদীপের অনুরাগীরা এবং সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদের একাংশ এই বিষয়টিকে অন্য নজরে দেখছেন। তাঁদের দাবি, অর্শদীপ সিং সমাজমাধ্যমে বরাবরই বেশ সক্রিয় এবং দলের সতীর্থদের সঙ্গে প্রায়শই নানারকম মজার ভিডিও ও ভ্লগ শেয়ার করে থাকেন। ঘরোয়া ক্রিকেট হোক বা ভারতীয় দলের ক্যাম্প—তিলক বর্মার সঙ্গে অর্শদীপের বন্ধুত্ব বেশ পুরনো ও গভীর। ফলে মাঠের বাইরের এই খুনসুটিকে অহেতুক বিতর্কিত রূপ দেওয়া ঠিক নয় বলেই মনে করছেন তাঁরা। এই পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তিতেই এখন তোলপাড় ক্রিকেট মহল।
মাঠে পঞ্জাবকে পিষে দিল তিলকের ব্যাট, প্লে-অফের লড়াই আরও কঠিন
বিতর্কের বাইরে যদি ম্যাচের দিকে নজর দেওয়া যায়, তবে ধরমশালার এই ম্যাচে পঞ্জাব কিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পঞ্জাব কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০০ রানের এক বিশাল স্কোর খাড়া করেছিল। দলের হয়ে ওপেনার প্রভসিমরন সিং একটি দুর্দান্ত অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেন এবং শেষের দিকে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটারদের ঝোড়ো ব্যাটিং পঞ্জাবকে ২০০-র ঘরে পৌঁছে দেয়।
২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। রায়ান রিকেলটন শুরুতেই পঞ্জাবের বোলারদের ওপর চড়াও হন। তবে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি মুম্বাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেন সেই তিলক বর্মা। মাঠের বাইরের বিতর্কের জবাব যেন তিনি মাঠের ভেতরেই ব্যাট হাতে দিলেন। মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের এক বিস্ফোরক ও ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সংগত দেন উইল জ্যাকস।
শেষ ওভারের রোমাঞ্চে ভর করে, ম্যাচের ঠিক এক বল বাকি থাকতে জয় ছিনিয়ে নেয় মুম্বাই। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্টে টানা পাঁচবার হারতে হলো পঞ্জাব কিংসকে। এই হারের ধাক্কায় চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসের মতো দলগুলির পয়েন্ট টেবিলের চাপ আরও বেড়ে গেল পঞ্জাবের ওপর। একই সঙ্গে প্রীতি জিন্টার দলের প্লে-অফে যাওয়ার স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়। অন্যদিকে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ইতিমধ্যেই প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও, এই জয় দিয়ে তারা টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলির শেষ চারের ওঠার সমীকরণ যে অনেকটাই জটিল করে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





