বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে এক অনন্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬, আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো রাজ্যব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—‘একটি গাছ মায়ের নামে’। এই বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই মহতী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, শংকর ঘোষ এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট নেতৃত্ব।
মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিল্লি থেকে সূচিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আদলেই বাংলায় এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প নয়; আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা প্রায় এক বছর ধরে রাজ্যজুড়ে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পরিবেশ রক্ষা এবং মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর মেলবন্ধন ঘটানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগে রাজ্যের প্রতিটি ব্লক, স্কুল, কলেজ, পুরসভা এমনকি থানা এলাকাতেও গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত ফলজ বৃক্ষ রোপণের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত দিক থেকেও সহায়ক হবে।
এই প্রকল্পের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। সমগ্র রাজ্যের জন্য মোট ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃক্ষরোপণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাগুলো হলো: জেলা ও কেএমসি (KMC) স্তরে ৫,০০০টি, প্রতিটি ব্লকে ১০০টি, পুরসভা এলাকায় ২০০টি, পৌরনিগম বা বোরো স্তরে ৩০০টি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ১,০০০টি করে চারাগাছ।
এই কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক হলো এর ডিজিটাল সংযোগ। চারাগাছ রোপণের পর কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর মায়ের নামে একটি নেমপ্লেট স্থাপন করে সেই ছবি ‘মাহ্ ভারত’ পোর্টালে আপলোড করেন, তবে তিনি সরকারিভাবে একটি ডিজিটাল শংসাপত্রও পাবেন। এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে পরিবেশের প্রতি সচেতন করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গেও জুড়ে দিয়েছে। ব্লক অফিস থেকে স্কুল-কলেজ পর্যন্ত চারাগাছ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরাও এই অভিযানের সক্রিয় অংশীদার হতে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের আবহে এই ধরণের কর্মসূচি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এক কোটির বেশি গাছ যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তবে তা রাজ্যের সবুজ আচ্ছাদন বা গ্রিন কভারেজ বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রাখবে। পরিবেশ দিবস শুধু একটি উদযাপনের দিন না হয়ে থাকুক, এই বার্তা নিয়েই রাজ্য সরকার আগামী বছরব্যাপী যে সক্রিয়তার পথ দেখাল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।





