জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুতের ওপর বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের একটি বড় অংশ আসার কথা বায়ুশক্তি থেকে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার তুলনায় প্রকল্পের অগ্রগতির গতি অত্যন্ত মন্থর।
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিশাল সম্ভাবনা: সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং অফশোর (সমুদ্র উপকূল) এলাকায় বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার ৫০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছে। কক্সবাজারের খুরুশকুল এবং মোংলার মতো কয়েকটি জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্প শুরু হলেও বড় কোনো সাফল্য এখনও আসেনি।
কেন এই মন্থর গতি? বিশেষজ্ঞরা বায়ুবিদ্যুতের এই ধীর গতির পিছনে বেশ কিছু বড় বাধা চিহ্নিত করেছেন:
জমির সংকট ও কারিগরি জটিলতা: উইন্ড টারবাইন বসানোর জন্য যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন, তা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে পাওয়া কঠিন। এছাড়া বাতাসের গতিবেগের ধারাবাহিকতা নিয়েও রয়েছে কারিগরি চ্যালেঞ্জ।
বিপুল বিনিয়োগের অভাব: বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যে ধরনের নীতিগত সুবিধা এবং গ্রিড পরিকাঠামো প্রয়োজন, তার অভাব রয়েছে।
পরিকল্পনার অভাব: অনেক সময় সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প হাতে নেওয়ায় মাঝপথে তা থমকে যাচ্ছে। সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতাও একটি বড় কারণ।
প্রতিবেশিদের তুলনায় পিছিয়ে: ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যখন বায়ুবিদ্যুতে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে, সেখানে বাংলাদেশের অগ্রগতি এখনও শৈশবকাল পার করতে পারেনি। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশেরও কম আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।
ভবিষ্যৎ পথ: জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই হবে না; বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। অন্যথায়, কয়লা বা আমদানিকৃত এলএনজি-র ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
পরিবেশ রক্ষায় বায়ুবিদ্যুৎ এক অনন্য সমাধান, কিন্তু সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে বাংলাদেশ এই দৌড়ে অনেক পিছিয়ে পড়বে।





