উচ্চমাধ্যমিকে অভাবনীয় রেজাল্ট, প্রথম স্থানাধিকারীর বাবার মুখে রাজ্যের শিক্ষার হাহাকার! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হলো ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৭৬ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলপ্রকাশ করল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এবারের পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য ধরা পড়েছে মেধাতালিকায়। তবে ফলাফলের আনন্দের মাঝেই এক অন্যরকম আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী, যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিও কলের মাধ্যমে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানান।

মেধাতালিকার শীর্ষে আদৃত: নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের জয়গান
এবারের উচ্চমাধ্যমিকে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদৃত পাল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬। সাফল্যের খবর পাওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিও কলে আদৃতের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার আশ্বাস দেন। তবে এই কথোপকথনের সময় এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হয়। আদৃতের বাবা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়ে বলেন, “রাজ্যের শিক্ষার হাল ফেরান।” যোগ্য মেধাবীরা যাতে রাজ্যেই কাজের সুযোগ পায় এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরে, সেই আর্তিই যেন ধরা পড়ল তাঁর গলায়। মুখ্যমন্ত্রীও অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সেই আবেদন শোনেন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরিসংখ্যান ও মেধা তালিকার ছবি
সংসদ জানিয়েছে, এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার। ৬৮০০টি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ৬৬,৬২৩ জন বেশি ছিল। তবে মেধাতালিকায় এ বছর ছেলেদের আধিপত্য স্পষ্ট। মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন মোট ৬৪ জন, যার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৮। অন্যদিকে, এক বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছেন এক তৃতীয় লিঙ্গের পরীক্ষার্থী, যিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

দ্রুততা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন রেকর্ড
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। রেকর্ড সময়ে ফলপ্রকাশের পাশাপাশি এদিনই স্কুলগুলো থেকে মার্কশিট, সার্টিফিকেট ও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট মেটাতে এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদেরও পরীক্ষার গার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। একই পরীক্ষাকেন্দ্রে চতুর্থ সেমিস্টার, তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো সিলেবাসের—এই তিন ধরনের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা ছিল সংসদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, যা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy