উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক লড়াই। অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি) তাদের ‘পিডিএ’ (অনগ্রসর, দলিত, সংখ্যালঘু) ফর্মুলা নিয়ে মুসলিম-যাদব পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে ওবিসি ও দলিতদের মন জয়ে মরিয়া। অন্যদিকে, বিজেপি অ-যাদব ওবিসি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ওপর নজর রেখে তাদের সমর্থন সংহত করছে।
ওম প্রকাশ রাজভর এসপি-র পিডিএ কৌশলকে নিছক নির্বাচনী চাল হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন যে, সেখানে অ-যাদব ওবিসিদের উপযুক্ত সম্মান মেলে না। জবাবে বিজেপি তাদের সংগঠনে ভূপেন্দ্র চৌধুরী বা কৃষ্ণ পাসওয়ানের মতো নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে এসসি-ওবিসি প্রতিনিধিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এসপি-র পিডিএ কৌশল অভাবনীয় সাফল্য এনেছিল, যেখানে তারা ৩৭টি আসনে জয়লাভ করে। তবে অখিলেশ এখন কেবল জাতপাতের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই; তিনি ইটাওয়ায় কেদারেশ্বর মন্দির নির্মাণ ও রামচরিতমানসকে ‘সাংস্কৃতিক সংবিধান’ আখ্যা দিয়ে নরম হিন্দুত্বের পথ বেছে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি যেখানে ‘৮০ বনাম ২০’ হিন্দু ভোট একত্রিত করার কৌশলে অটল, সেখানে এসপি পিডিএ জোটের মাধ্যমে সেই ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করছে। তবে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এবং বিভিন্ন হিন্দু গোষ্ঠীকে এক ছাতার নিচে আনার দক্ষতা তাদের বড় সুবিধা দিচ্ছে। কুর্মি, মৌর্য, লোধি বা পাসী মতো ‘ভাসমান’ ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। উত্তরপ্রদেশের জাতিগত সমীকরণের এই লড়াইয়ে এসপি কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হলেও, বিজেপির বহুমুখী সামাজিক জোট এখনও কাঠামোগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।





