ভাঙড়ের চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরণ মামলায় আরও বড়সড় আইনি বিপর্যয়ের মুখে শওকত মোল্লা। আজ আদালতে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবে শেষে বিশেষ আদালত তাঁকে ১৪ দিনের এনআইএ (NIA) হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করতেই এনআইএ এই হেফাজতের আবেদন জানিয়েছিল, যা মঞ্জুর করেছে আদালত।
তদন্তে নতুন মোড়: এনআইএ সূত্রে খবর, শওকত মোল্লাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের দিন কোথায় কোথায় বৈঠক হয়েছিল, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং অর্থ কোথা থেকে এসেছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আজ আদালতে সওয়াল করার সময় এনআইএ-র আইনজীবী জানান, এই মামলায় বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে, যা যাচাই করার জন্য শওকতকে মুখোমুখি জেরা করা প্রয়োজন।
ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষায় বড় আশা: তদন্তকারীদের নজরে থাকা শওকতের মোবাইল ফোনটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেটি পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবে। এনআইএ মনে করছে, ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, কল রেকর্ড এবং মুছে ফেলা তথ্যগুলি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ডদের চিনে নিতে সাহায্য করবে। এই ফরেন্সিক রিপোর্টই মামলার মূল সাক্ষী হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় ভাঙড় সহ গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বিস্ফোরণ কাণ্ডে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্যদিকে, শওকতের ঘনিষ্ঠমহল এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করলেও, এনআইএ-র এই কঠোর অবস্থানে আইনি জটিলতা যে অনেকটাই বাড়ল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
এখন পরবর্তী ১৪ দিন এনআইএ-র হেফাজতে থাকাকালীন শওকত মোল্লা জেরার মুখে কী কী তথ্য ফাঁস করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে এই মামলার গতিপথ।





