সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং আইটি সেক্টরে কাজ করতে ইচ্ছুক তরুণ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা। দেশের অন্যতম বৃহৎ আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) এবার পুরোপুরি ‘এআই-চালিত’ অপারেশনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সংস্থার সাম্প্রতিক বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে আগামী তিন বছরের মধ্যে টিসিএস-এর কাজের ধরনে এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। চন্দ্রশেখরনের দাবি, সংস্থার কর্মী সংখ্যা এবং এআই এজেন্টের সংখ্যা প্রায় সমান হতে চলেছে। অর্থাৎ, বর্তমানের ৫ লক্ষ কর্মীর বিপরীতে ভবিষ্যতে ৫ লক্ষ এআই এজেন্ট সংস্থার কাজের হাল ধরবে।
দীর্ঘদিন ধরে আইটি পরিষেবা শিল্পে ‘কর্মী সংখ্যা’কেই কোম্পানির উন্নতির প্রধান সূচক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সেই প্রথাগত ব্যবসায়িক মডেলে এবার দাঁড়ি টানতে চলেছে টিসিএস। চেয়ারম্যানের স্পষ্ট বার্তা, সংস্থা এখন আর শুধুমাত্র কর্মী সংখ্যা বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করবে না। টিসিএস-এর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এখন অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা প্রবল। আগের মতো বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের দিন যে শেষ হয়ে আসছে, তা সংস্থার পরিকল্পনাতেই স্পষ্ট।
শেয়ারহোল্ডারদের উদ্বেগের জবাবে চন্দ্রশেখরন জানান, টিসিএস-এ নিয়োগের গতি এবং ধরন পরিবর্তিত হবে। যদিও তিনি এ কথা স্বীকার করেছেন যে, এআই প্রযুক্তি সম্পর্কিত নতুন কাজের জন্য প্রতিভার প্রয়োজন থাকবে, তবে সেই সংখ্যা প্রথাগত নিয়োগের চেয়ে অনেকটাই কম। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই টিসিএস প্রায় ২৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে শিরোনামে এসেছিল, যা সংস্থার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি ছিল। এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নীতি কর্মসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আইটি মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
তবে কি মানুষের জায়গা পুরোপুরি দখল করে নেবে যন্ত্র? চন্দ্রশেখরনের মতে, কর্মক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। কিন্তু কাজের চাহিদা ও দক্ষতার সংজ্ঞা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টিসিএস চেয়ারম্যানের পরামর্শ, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে কর্মীদের শুধুমাত্র গতানুগতিক দক্ষতা থাকলে চলবে না, বরং এআই এবং অটোমেশন সম্পর্কিত নতুন দক্ষতায় নিজেদের আপগ্রেড করা এখন সময়ের দাবি।
টিসিএস-এর এই সিদ্ধান্ত আইটি শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক হতে পারে। তারা প্রমাণ করে দিল যে, এআই কোনো ভবিষ্যতের জল্পনা নয়, বরং বর্তমানের এক বাস্তব রূপান্তর। যারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের পরিবর্তন করতে পারবে না, তাদের জন্য আগামীর পথ বেশ কঠিন হতে পারে। অর্থাৎ, আইটি সেক্টরে এখন নিয়োগের চেয়ে ‘দক্ষতা’ই বড় মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রূপান্তরের ফলে টিসিএস কতটা লাভবান হয় এবং কর্মীরা কীভাবে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।





