“আয়ুষ্মান ভারত থেকে সরকারি চাকরি”-প্রথম বৈঠকেই যে বড় ৬ সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু?

৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। সোমবার নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সারলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এক ধাক্কায় ৬টি বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান— প্রথম দিনেই নতুন সরকারের প্রশাসনিক অভিমুখ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটার ও শহীদদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন বৈঠকের শুরুতেই বাংলার ৯৩ শতাংশ ভোটার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি শ্রদ্ধা জানান বিজেপির সেই ৩২১ জন কর্মীকে, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “এই শহীদ পরিবারগুলোর যাবতীয় সামাজিক দায়িত্ব এখন থেকে রাজ্য সরকারের। প্রতিটি হত্যার বিচার হবেই।”

সীমান্ত সুরক্ষা ও বিএসএফ-কে জমি দেশের এবং রাজ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিএসএফ-এর (BSF) জমি জট কাটাতে এদিন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “সীমান্ত এলাকার জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভূমি দফতরকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ‘ফুল প্যাকেজ’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত ছিলেন, তা ফেরানোর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • আয়ুষ্মান ভারত: রাজ্যে অবিলম্বে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বিশ্বকর্মা ও উজালা যোজনা: আটকে থাকা ৮.৬৫ লক্ষ বিশ্বকর্মা যোজনার আবেদন দ্রুত খতিয়ে দেখার পাশাপাশি উজালা ৩ প্রকল্পে আরও ১৫ লক্ষ কোটা চালুর কথা জানান তিনি। কামার, কুমোর ও তাঁতিদের জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু।

প্রশাসনিক রদবদল ও বি এন এস (BNS) আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড় বদল এনে শুভেন্দু জানান, রাজ্যে এতদিন পুরনো আইপিসি (IPC) চালানো হচ্ছিল। আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা বি এন এস কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যাবিনেট। এছাড়া আইএএস ও ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য খুশির খবর রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা এক ধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা এদিন এই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।

জনগণনা ও পরবর্তী বৈঠক কেন্দ্রীয় সরকারের জনগণনা সংক্রান্ত ফাইল ১১ মাস ধরে ফেলে রাখাকে ‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু। তিনি জানান, নতুন সরকার অবিলম্বে জনগণনার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিন বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বড় সংকেত দিয়ে জানান, আগামী সোমবার ফের মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সেখানে আরজি কর কাণ্ড, মহিলাদের নিরাপত্তা, বকেয়া ডিএ (DA) এবং পে-কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ফলে আগামী সোমবার নবান্নের পরবর্তী বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy