রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এবার সরাসরি তৃণমূল ভবন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে হামলার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল কোনোদিন প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনি, কিন্তু আজ তাঁদের ওপরই আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
ভোটের ফলপ্রকাশ এবং পরবর্তী ঘটনাক্রম নিয়ে রাজ্য যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার বিস্ফোরক দাবি: ২০১১ সালের পরিবর্তনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম, তখন সিপিএমের একটাও অফিস দখল করিনি। আমরা বদলা নয়, বদল চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ যা হচ্ছে তা নজিরবিহীন। তৃণমূল ভবন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। কেন এই আক্রমণ? মানুষের রায় কি এই অশান্তি করার জন্য?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং পার্টি অফিসগুলো দখল করার চেষ্টা চলছে। মমতার দাবি, তৃণমূল সবসময়ই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে চলায় বিশ্বাসী, কিন্তু বিরুদ্ধপক্ষ সেই সৌজন্য দেখাচ্ছে না।
রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক: মমতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই হামলার প্রতিবাদে বড়সড় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: তৃণমূল ভবন ও অভিষেকের অফিসে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলাজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলার রাজনীতিতে এই ‘অফিস দখলের’ সংস্কৃতি নতুন নয়, তবে সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দপ্তরে হামলার অভিযোগ পুরো বিষয়টিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার রেশ ধরে আগামী দিনে শাসক-বিরোধী সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।





