“আমরা সিপিএমের অফিস দখল করিনি!” হারের পরেই মমতার নিশানায় বিজেপি, বিস্ফোরক তৃণমূল নেত্রী

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরাজয় নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘অত্যাচার’ ও ‘দখলদারি’র অভিযোগ তুলে মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই গেরুয়া শিবির রাজ্যে অরাজকতা শুরু করেছে এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর বক্তব্যে বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে এনে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন সিপিএমের কোনো পার্টি অফিস দখল করতে যাইনি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভোটে জেতার পরেই বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু করেছে এবং আমাদের কর্মীদের ঘরছাড়া করছে।”

বিস্ফোরক মমতা: তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে বিজেপি জিতেছে, সেখানে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি সাফ জানান, “নির্বাচনে হার-জিত থাকেই, কিন্তু জয়ের পর এমন প্রতিহিংসার রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতি নয়।” মমতার এই মন্তব্য যে সরাসরি নবনির্বাচিত বিজেপি নেতৃত্বের দিকে এক বড় চ্যালেঞ্জ, তা মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

পাল্টা লড়াইয়ের বার্তা: পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেও এদিন সচেষ্ট ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং এই তথাকথিত ‘অত্যাচার’ রুখতে দল সবরকম আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবে।

বিরোধী শিবির অবশ্য মমতার এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে বলেই উল্লাস করছে, কোনো হিংসা নয়। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মমতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।

পেশাদার সম্পাদকের নোট: হারের পর মমতার এই অবস্থান তাঁর ভবিষ্যৎ বিরোধী রাজনীতির রূপরেখা হতে পারে। এই প্রতিবেদনটি বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy