বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মাঝেই এবার ময়দানে নামলেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরাসরি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছে যান তিনি। সেখান থেকেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটগণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়ে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এই হেভিওয়েট নেতা।
কালীঘাটে আবেগঘন মুহূর্ত: ‘আপনি হারেননি’ এদিন দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছলে অখিলেশকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমেই অভিষেককে জড়িয়ে ধরে অখিলেশ বলেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করেছ।” এরপর মমতার ঘরে গিয়ে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে অখিলেশ মন্তব্য করেন, “আপনি হারেননি।” পাল্টা সুর মিলিয়ে তৃণমূল নেত্রীও বলেন, “হ্যাঁ, আমরা হারিনি।” দুই নেতার এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ যাদব সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে তোপ দাগেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হচ্ছে না? সাধারণ মানুষকে না দেখাতে চাইলে অন্তত সংবাদমাধ্যমকে দেখান। আমাদের ডাকুন, আমরা দেখতে চাই।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সুপ্রিম কোর্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া যদি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ স্ট্রিমিং) হতে পারে, তবে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব নির্বাচনের গণনা কেন সরাসরি দেখানো হবে না?”
আই-প্যাকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মমতার সঙ্গে এই দীর্ঘ বৈঠকের মাঝেই উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি নিয়েও বড় খবর সামনে এসেছে। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। কিন্তু মাত্র তিন মাসের মাথায় বুধবার আচমকাই সেই সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেছেন অখিলেশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার বদলে নিজস্ব রণকৌশলেই এগোতে চাইছেন তিনি।
গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই অখিলেশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘ইন্ডিয়া’ জোট জনগণের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে পিছু হটবে না। বাংলার নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলি যে তিনি জাতীয় স্তরে নিয়ে যেতে চাইছেন, আজকের এই বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মমতা-অখিলেশ জুটির এই রসায়ন আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
আগামী দিনের আরও ব্রেকিং নিউজ এবং বিশ্লেষণ পেতে আমাদের ফলো করুন।





