ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশসীমা রক্ষার ক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ফের বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই মেগা ডিল নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দিনের সরকারি সফরে ফ্রান্সে যাচ্ছেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং। এই সফরে তিনি বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা দাসো এভিয়েশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মূলত প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, বায়ুসেনার বহু প্রতীক্ষিত ‘মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট’ (MRFA) প্রকল্পের আওতায় এই বিমানগুলো কেনা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে একটি খসড়া অনুরোধপত্র (Letter of Request বা LOR) প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই এলওআর ফ্রান্সে পাঠানো হবে। এই আনুষ্ঠানিক নথিটি জমা পড়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দর কষাকষি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তির আর্থিক মূল্য আনুমানিক ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৪টি রাফালের মধ্যে ২৪টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আমদানি করা হবে, যা ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে। বাকি ৯০টি বিমান নির্মিত হবে ভারতেই। ফরাসি সংস্থা দাসো এভিয়েশন এবং ভারতের একটি স্থানীয় সংস্থা যৌথভাবে এই ৯০টি রাফাল তৈরি করবে। দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এই বিমানগুলিতে প্রায় ৫০ শতাংশ যন্ত্রাংশ ভারতেই তৈরি হবে। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প যে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে কেনা ৩৬টি রাফাল বিমান বর্তমানে আম্বালা এবং হাসিমারা ঘাঁটিতে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। সেই রাফালের কার্যকারিতায় সন্তুষ্ট হয়েই ভারত এই বিশাল সংখ্যক বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি ‘রাফাল মেরিন’ জেট কেনার প্রক্রিয়াও চলছে, যার চুক্তি গত বছরই স্বাক্ষরিত হয়েছে।
১১৪টি নতুন রাফাল বায়ুসেনায় যুক্ত হলে ভারতের আকাশসীমা কার্যত অভেদ্য হয়ে উঠবে। চীন ও পাকিস্তানের মতো দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে এই যুদ্ধবিমানগুলি ভারতীয় বায়ুসেনার মনোবল এবং যুদ্ধক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বায়ুসেনা প্রধানের এই ফ্রান্স সফরকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় এটি হতে চলেছে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এবং শক্তিশালী সংযোজন।





