রাজ্য বিধানসভায় চরম ভরাডুবির পর এবার খোদ দেশের সংসদ ভবনেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। রাজ্য বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের পর্ব আসন্ন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, অন্তত ১২ জন সাংসদ দল ছাড়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রকাশ, দল ছাড়তে চলা এই সাংসদদের তালিকায় এমন ৩ থেকে ৪ জন রয়েছেন, যাঁরা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
খুব শীঘ্রই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। আর সেই অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগে, সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই তৃণমূলের সংসদীয় ঘরে আছড়ে পড়তে চলেছে এই বড়সড় রাজনৈতিক সুনামি। এর আগে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে ইতিমধ্যেই প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাও আদায় করে নিয়েছেন। ঠিক সেই একই আইনি কৌশল মেনে এবার সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে বাঁচতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সংখ্যা নিয়ে একজোট হয়ে দল ছাড়তে হয়। সেই হিসেবে তৃণমূলের সংসদীয় দলের ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ‘জাদুর সংখ্যা’টি হল ১৮ বা ১৯। এই লক্ষ্যপূরণেই প্রথমে ১২ জন সাংসদের দলত্যাগ প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর, বর্তমানে আরও অন্তত ৬ জন সাংসদ তৃণমূল ছাড়ার প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছেন। সব মিলিয়ে তৃণমূলের সংসদীয় অস্তিত্ব এখন এক গভীর সংকটের মুখে। তবে কড়া নিরাপত্তার খাতিরে এখনই দলত্যাগী সাংসদদের প্রত্যেকের নাম সামনে আনতে চাইছে না তৈরি হওয়া এই নতুন ‘ব্লক’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু লোকসভাতেই যে এই ‘অপারেশন লোটাস’ সীমাবদ্ধ থাকছে তা নয়, আগামী দিনে রাজ্যসভাতেও একই ধরনের অপারেশন চালানোর সম্ভাবনা প্রবল। বিধানসভার পর সংসদেও তৃণমূলের এই দৈন্যদশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বড় অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আগামী সপ্তাহের ঘটনাক্রমের দিকে।





