পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন সকলের নজর নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে। এই আবহে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চেনা মুখ তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী নতুন সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। রাজ্যের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করা থেকে শুরু করে নতুন বিমানবন্দর— এক দীর্ঘ দাবিপত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’? তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প রাজ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অধীর চৌধুরীর দাবি, নতুন সরকারের উচিত দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করা। যাতে রাজ্যের মহিলারা আর্থিক দিক থেকে আরও সচ্ছল হতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজনীতি সরিয়ে রেখে সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষাই এখন সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত।
উন্নয়নের লক্ষ্যে বিমানবন্দর ও পরিকাঠামো কেবল সামাজিক প্রকল্পই নয়, অধীরের নজর এখন পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও। মুর্শিদাবাদ তথা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরের দাবি দীর্ঘদিনের। নতুন বিজেপি সরকার যেহেতু পরিকাঠামোয় জোর দেওয়ার কথা বলেছে, তাই অধীর বাবু এবার সেই দাবিকে আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের জন্য এই বিমানবন্দর অত্যন্ত জরুরি।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অধীরের ভূমিকা রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কংগ্রেসের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা ছিলই। তবে অধীর চৌধুরীর এই সাম্প্রতিক দাবিদাওয়ায় স্পষ্ট যে, তিনি বিরোধী আসনে থাকলেও গঠনমূলক সমালোচনার পথই বেছে নিচ্ছেন। একদিকে রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলিকে আরও জনমুখী করার আর্জি, অন্যদিকে নিজের এলাকার দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্নপূরণের দাবি— দুই মিলিয়ে এখন নতুন সরকারের কোর্টে বল ঠেলে দিলেন বহরমপুরের এই প্রভাবশালী নেতা।
এখন দেখার, রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবিগুলিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।





