ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় উত্থানের সাক্ষী থাকল ২০২৬ সাল। ২০১৪ সালে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল মাত্র ৭টি রাজ্য দিয়ে, আজ ১২ বছরের মাথায় সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২-এ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসাম, উত্তর থেকে দক্ষিণ—ভারতের মানচিত্রের বড় অংশই এখন এনডিএ-র (NDA) দখলে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা এখন এনডিএ শাসিত সরকারের অধীনে।
৭ থেকে ২২: এক যুগের জয়যাত্রা
২০১৪ থেকে ২০২৬—এই এক যুগে কীভাবে বদলে গেল ভারতের রাজনৈতিক ভারসাম্য? এক নজরে দেখে নিন মাইলফলকগুলি:
২০১৪: নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে প্রথমবার এনডিএ সরকার গঠন। তখন বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় ছিল মাত্র ৭টি রাজ্যে।
২০১৮: উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝোড়ো প্রসারের ফলে এনডিএ-র শাসনাধীন রাজ্যের সংখ্যা পৌঁছে যায় ২১-এ।
২০২৪: লোকসভায় আসন কিছু কমলেও বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশের প্রধান মিত্রদের পাশে নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যে নিজেদের ভিত মজবুত রাখে জোট।
২০২৬: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় এবং আসামে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর ভারতের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন এনডিএ-র জয়পতাকা উড়ছে।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘ত্রিশূল’ কৌশল
কেন বার বার বিরোধীদের টেক্কা দিচ্ছে এনডিএ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনটি প্রধান কারণ এই সাফল্যের ভিত্তি:
১. ‘সুবিধাভোগী’ মডেল: ঘর-বাড়ি, শৌচাগার থেকে শুরু করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া—এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বিশেষ করে নারী ও গ্রামীণ দরিদ্রদের মধ্যে এক অনুগত ভোটার শ্রেণি বা ‘সুবিধাভোগী’ তৈরি করেছে।
২. সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ: রাম মন্দির বা কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে সুনিপুণভাবে এক সুতোয় গেঁথেছে এনডিএ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ৩৬৫ দিন সক্রিয় থাকা ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তি।
৩. ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রচার: কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি দ্বিগুণ হবে—এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বে ভরসা রেখেছে সাধারণ মানুষ।
মোদি ফ্যাক্টর ও শাহের মগজাস্ত্র
এই সাফল্যের প্রধান মুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় প্রার্থীর ওপর ক্ষোভ থাকলেও মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভর করে সেই কেন্দ্র জিতে নিয়েছে বিজেপি। ভোটারদের কাছে তিনি এক ‘অজেয় ঢাল’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
পাশাপাশি, অমিত শাহের সাংগঠনিক রণকৌশলকেও এই জয়ের প্রধান কারিগর বলা হয়। তাঁর জমানায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ২.৪৭ কোটি থেকে বেড়ে ১১ কোটি ছাড়িয়েছে, যা বিজেপিকে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে।
বিপরীতে, কংগ্রেসসহ অধিকাংশ বিরোধী দল যখন কেবল নির্বাচনের সময় সক্রিয় হয়, সেখানে এনডিএ-র চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় থাকার কৌশলই তাদের ভারতের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে।





