আজকের দ্রুতগতির জীবনে সুস্থ ও ফিট থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনিয়মিত জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভাসের কারণে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। অনেকেই ওজন কমাতে বা সুস্থ থাকতে খাওয়া-দাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি না খেয়ে থাকা নয়, বরং পাতে সঠিক নিয়মে ‘ব্যালেন্সড ডায়েট’ বা সুষম খাদ্য রাখা।
পুষ্টিবিদদের মতে, একটি আদর্শ সুষম খাদ্যে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখলেই শরীর ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
কী কী থাকবে একটি আদর্শ ‘ব্যালেন্সড ডায়েট’-এ?
কার্বোহাইড্রেট (শর্করা): শরীরকে সচল রাখতে শক্তির প্রধান উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট। তবে রিফাইন করা চাল বা ময়দার বদলে লাল চালের ভাত, ওটস বা আটার রুটি খাদ্যতালিকায় রাখা বেশি উপকারী।
প্রোটিন: পেশি গঠন এবং শরীরের ক্ষয়পূরণের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল বা পনিরের মতো প্রথম সারির প্রোটিন রাখা উচিত।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: অনেকেই মনে করেন ফ্যাট মানেই ক্ষতিকর, যা একেবারেই ভুল। শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে ঘি, বাদাম, অলিভ অয়েল এবং সামুদ্রিক মাছের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের প্রয়োজন রয়েছে।
ভিটামিন ও খনিজ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের পাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে মরশুমি ফল ও রঙিন শাকসবজি রাখা বাধ্যতামূলক।
ডায়েট শুরুর আগে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যালেন্সড ডায়েটের পাশাপাশি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করতে হবে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং ভাজাভুজি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে মনে রাখবেন, প্রত্যেকের শরীরের গঠন এবং শর্করার চাহিদা আলাদা। তাই কোনো ক্রনিক অসুখ থাকলে হুট করে ইন্টারনেটের ডায়েট চার্ট ফলো না করে, একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে নিজস্ব ডায়েট চার্ট বানিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।





