ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা আর আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু অনেকের কাছেই এই আনন্দ মাটি হয়ে যায় গাড়িতে উঠলেই শুরু হওয়া মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘মোশন সিকনেস’। মূলত শরীরের ভারসাম্য ও চোখের অভিজ্ঞতার অসামঞ্জস্যের কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
যাত্রাপথে স্বস্তি ফেরাতে কী কী করবেন?
খাবারে নিয়ন্ত্রণ: ভ্রমণের আগে একেবারেই খালি পেটে বা অতিরিক্ত ভরপেট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন—বিস্কুট বা কলা খান। অতিরিক্ত তেল-মশলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার বমি ভাব বাড়িয়ে দেয়।
সঠিক আসন নির্বাচন: গাড়িতে ওঠার সময় সবসময় সামনের সিটে বসার চেষ্টা করুন। পেছনের সিটে দুলুনি বেশি অনুভূত হয়, যা অস্বস্তি বাড়ায়। এছাড়া জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে তাকালে মস্তিষ্ক চলাচলের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
মোবাইল ও বই থেকে দূরে: যাত্রাপথে মোবাইল ব্যবহার বা বই পড়ার অভ্যাস থাকলে তা আজই ছাড়ুন। চোখ যখন স্থির কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু শরীর চলমান থাকে, তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং বমি ভাব শুরু হয়। এর বদলে দূরের কোনো স্থির বস্তু বা দিগন্তের দিকে তাকান।
সতেজ বাতাসের গুরুত্ব: গরম বা বদ্ধ পরিবেশে অস্বস্তি দ্রুত বাড়ে। জানালার পাশে বসার চেষ্টা করুন এবং তাজা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে ভেজা রুমাল দিয়ে মুখ মুছে নিলে শরীর সতেজ থাকে।
প্রাকৃতিক সমাধান: আদা বমি প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। ভ্রমণের আগে অল্প আদা চিবিয়ে খেলে বা আদা চা পান করলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া লেবুর গন্ধ বা পুদিনাপাতাও বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: যাত্রার আগের রাতে ভালো ঘুম মোশন সিকনেস কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে মনকে শান্ত ও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
সতর্কবার্তা: যাদের সমস্যা অনেক বেশি, তারা নিয়মিত ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বমি ভাব নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ওষুধ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।




