অকারণে কাঁদছে সন্তান? শান্ত করার আগে মায়েরা মিলিয়ে নিন এই ৫টি সংকেত, বিপদ এড়াতে আজই জানুন!

একটি শিশুর ভাষা হলো তার কান্না। খিদে পাওয়া থেকে শুরু করে শরীরের যেকোনো অস্বস্তি— সবটাই সে কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ করে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, দুধ খাওয়ানোর পরেও বা পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও শিশু একটানা কেঁদে চলেছে। এমন অবস্থায় অনেক মা-ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুর কান্নার পেছনে এমন কিছু কারণ থাকতে পারে যা আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাই।

মায়েরা সতর্ক থাকুন, শিশুর অতিরিক্ত কান্নার আড়ালে থাকতে পারে এই কারণগুলো:

১. পেটে গ্যাস বা কলিক পেইন (Colic Pain)
শিশুদের কান্নার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পেটে গ্যাস। বিশেষ করে জন্মের প্রথম কয়েক মাস শিশুদের পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি তৈরি হয় না। দুধ খাওয়ার সময় পেটে বাতাস ঢুকে গেলে অসহ্য যন্ত্রণায় শিশু দুই পা পেটের দিকে গুটিয়ে একটানা কাঁদতে থাকে। একেই চিকিৎসকরা ‘কলিক’ বলেন।

২. ডায়াপারের অস্বস্তি বা র‍্যাশ
অনেক সময় ভেজা ডায়াপার শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। আমরা বাইরে থেকে বুঝতে না পারলেও ডায়াপার র‍্যাশের কারণে শিশু প্রচণ্ড বিরক্ত হয় এবং কাঁদতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকলে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ও থাকে।

৩. অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা লাগা
শিশুরা বড়দের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। ঘরে খুব বেশি গরম পড়লে বা শিশুকে অতিরিক্ত জামাকাপড় পরিয়ে রাখলে সে ঘেমে গিয়ে অস্বস্তিতে কাঁদে। আবার শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলেও শিশু অস্থির হয়ে ওঠে। তার ঘাড় বা বুক স্পর্শ করে তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করুন।

৪. দাঁত ওঠার যন্ত্রণা
সাধারণত ৫ থেকে ৭ মাস বয়সে শিশুদের দাঁত উঠতে শুরু করে। এই সময়ে মাড়ি ফুলে যাওয়া বা ব্যথার কারণে শিশু সব সময় খিটখিটে থাকে এবং কাঁদতে থাকে। সেই সঙ্গে শিশুর লালা ঝরলে বা কোনো কিছু চিবানোর চেষ্টা করলে বুঝবেন তার দাঁত উঠছে।

৫. একাকীত্ব বা অতিরিক্ত উদ্দীপনা
অনেক সময় শিশু কেবল মা বা বাবার সান্নিধ্য চায়। তাকে কোলে নিলে কান্না থেমে গেলে বুঝবেন সে একাকীত্ব বোধ করছিল। অন্যদিকে, ঘরে খুব বেশি শব্দ, জোরালো আলো বা অনেক মানুষের উপস্থিতি শিশুকে ক্লান্ত করে দেয় (Overstimulation), যার ফলেও সে কাঁদতে পারে।

কী করবেন মায়েরা?
ডেকুর তোলা: দুধ খাওয়ানোর পর শিশুর পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে ডেকুর তোলান। এতে গ্যাসের সমস্যা কমবে।

বিছানা পরীক্ষা: শিশু কাঁদলে প্রথমেই দেখুন তার ডায়াপার শুকনো আছে কিনা।

মালিশ: হালকা গরম তেল দিয়ে শিশুর পেটে ঘড়ির কাটার দিকে আলতো মালিশ করলে গ্যাসের ব্যথা কমে।

শান্ত পরিবেশ: কান্নার সময় শিশুকে শান্ত ও অন্ধকার ঘরে নিয়ে যান এবং গায়ের ওপর হাত রেখে অভয় দিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy