৫০ পেরোলেই নারীর স্বাস্থ্যে বিশেষ নজর, যেসব রোগ বাসা বাঁধে অবহেলায়!

‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ – এই প্রবাদ বাক্যটি নারীদের ক্ষেত্রে যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে এবং সেই সঙ্গে বাসা বাঁধে নানা রোগব্যাধি। পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করেন, যার ফল হয় মারাত্মক। পুরুষের তুলনায় নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা এবং রোগ ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে মধ্যবয়সে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের শারীরিক পরিবর্তন ও ঝুঁকি:
নারীদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সময় শারীরিক পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। ঘুম কমে যাওয়া, শরীর হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক দুর্বলতা – এসবই মেনোপজের লক্ষণ। এই সময়ে নারীদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্য: বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ বেশি দেখা যায়। হরমোনের ওঠানামা এর একটি প্রধান কারণ। পেরিমেনোপজ এবং মেনোপজের সময়কার শারীরিক পরিবর্তনগুলো হতাশা ও উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

গর্ভাবস্থা ও এর পরবর্তী প্রভাব: গর্ভাবস্থার সময় থেকে নারীর শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে যায়। যদি গর্ভাবস্থায় কোনো নারীর হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা হতাশা থাকে, তবে মা ও শিশু উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দেওয়াও সাধারণ।

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সমস্যা: নারীরা ঋতুস্রাব, প্রসব, গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজের মতো বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। অনেক সময় যৌন সমস্যা এবং প্রজনন সংক্রান্ত বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যাগুলো অবহেলা করলে বন্ধ্যাত্ব এবং কিডনি সমস্যার মতো গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

হৃদরোগ: হৃদরোগ কেবল পুরুষদের সমস্যা নয়। সমীক্ষা অনুসারে, ৫৪ শতাংশ মহিলা হৃদরোগের শিকার হন। অনেক সময় নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের লক্ষণগুলো ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়, যা সহজে ধরা পড়ে না এবং ফলস্বরূপ মৃত্যুর হার পুরুষদের চেয়ে বেশি হয়।

ক্যান্সার ঝুঁকি: ডিম্বাশয় এবং জরায়ুর ক্যান্সার প্রতি বছর অনেক নারীর জীবন কেড়ে নেয়। যেসব নারীদের পিসিওডি (PCOD)-এর সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এছাড়াও, ব্রেস্ট ক্যান্সার অনেক নারীর মধ্যে দেখা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধ করা গেলে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।