২৫-৪৫ বছর বয়সীরাও ভুগছেন ‘বুড়োদের রোগে’! প্রযুক্তিতে আসক্তি কীভাবে নষ্ট করছে তরুণদের স্বাস্থ্য?

আজকাল তরুণদের মাঝেও বুড়ো বয়সী মানুষদের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে—এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শিরা স্ফীত হয়ে যাওয়া, হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথাসহ অর্শ্বরোগের মতো সমস্যা আজকাল তরুণদের মধ্যে বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর ভঙ্গিতে শুয়ে-বসে থাকা, দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার।

গবেষণায় দেখা গেছে, এলোমেলো জীবনযাপনের কারণেই তরুণদের মাঝে এইসব রোগ বাড়ছে।

 

কেন তরুণরা অকাল বার্ধক্যের রোগে ভুগছে?

 

২০১৫ সালে ৬০০০০ রোগীর তথ্য নিয়ে বুপা (BUPA) মেডিক্যাল সংস্থার করা একটি গবেষণায় এই সমস্যাগুলো উঠে আসে:

  • ১. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা বা প্রযুক্তি যন্ত্রে এক মনে ব্যস্ত থাকার কারণে তরুণরা ‘বুড়োদের’ রোগে ভুগছে। ২৫-৪৫ বছর বয়সী রোগীরা বয়স্কদের মতো একই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
  • ২. প্রযুক্তির প্রভাব: যারা স্মার্টফোন বা ট্যাব নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন, তাদের মাঝেই এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। মাথা ঝুঁকিয়ে এক মনে মোবাইল বা অন্য প্রযুক্তি যন্ত্রের দিকে নজর দিলে পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথার সমস্যা স্থায়ী হয়ে যায়।
  • ৩. কাজের ও মনের চাপ: কাজের চাপ ও ব্যস্ত কর্মসূচি এর জন্য অনেকটা দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে কাজ ও মনের চাপ সংক্রান্ত সমস্যাও তরুণদের মধ্যে বেড়েছে।

 

সমস্যার তীব্রতা

 

গবেষণা অনুযায়ী, মাত্র ১৬-২৪ বছর বয়সীদের ৪৫ শতাংশই আজকাল এইসব শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে অর্শ্বরোগ বা স্ফীত শিরার চিকিৎসায় যা করতে হয়, তরুণরা সেই চিকিৎসা নিতে সাধারণত রাজি হন না বলে জানিয়েছেন বুপা মেডিক্যাল ডিরেক্টর ড. স্টিভ।

 

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

 

অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি পরিবর্তন না করলে এই সমস্যাগুলি দ্রুত স্থায়ী রূপ নেবে। তরুণদের উচিত দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস পরিহার করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা।