হুট করে দাঁড়ালেই মাথা ঘোরে? জানুন এর কারণ ও প্রতিকারের উপায়

বসা অবস্থা থেকে হঠাৎ করে উঠে দাঁড়ালে অনেকেরই মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই অভিজ্ঞতা ভীতিকর হলেও, ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের ফ্র্যাঙ্কেল কার্ডিওভাস্কুলার সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট নাদিয়া সাট্যন জানাচ্ছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে তিনি আরও যোগ করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই মাথা ঘোরার বিষয়টি তুচ্ছ ও স্বাভাবিক। কিন্তু ঘনঘন এমনটা ঘটলে, পূর্বের শারীরিক সমস্যার ইতিহাস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আসুন, জেনে নেওয়া যাক ঠিক কেন বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ালে মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এর কারণ মোটেও জটিল কিছু নয়। বসা অবস্থায় শরীরের রক্তচাপ থাকে একরকম। হুট করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে রক্তচাপে আকস্মিক পরিবর্তন আসে। ডাঃ সাট্যন বলেন, ‘বসা থেকে হুট করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যাকর্ষণে পরিবর্তন আসে। যার ফলে শরীরের নিচের অংশের রক্তে টান পড়ে। এতে করে বসা অবস্থা থেকে হুট করে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে ওঠার প্রবণতা তৈরি হয়’।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কোনো কারণে তাড়াহুড়োর মধ্যে দাঁড়িয়ে গেলে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Hypotension) দেখা দেয়। দাঁড়ানোর কারণে শরীরের উপরের অংশের রক্তচাপ, বিশেষ করে মাথার অংশের রক্তচাপ দ্রুত কমে যায়। এর ফলেই মাথা ঘোরাভাব বা মাথা হালকা বোধ হওয়ার সমস্যাটি অনুভূত হয়। তবে এই সমস্যা খুবই ক্ষণস্থায়ী। অল্প কিছুক্ষণের জন্য দেখা দিলেও, শরীর খুব দ্রুত আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তবে এক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। রক্তচাপের এই পরিবর্তনের সঙ্গে জলস্বল্পতা, কিছু বিশেষ ওষুধ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং নিউরোলজিক্যাল সমস্যাও জড়িত থাকতে পারে।
ডাঃ সাট্যন জানান, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বসা থেকে দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা ঘোরার সমস্যাটি অন্যদের তুলনায় বেশি দেখা দেয়। এমনটা হলে তিনি পরামর্শ দেন, দ্রুত পুনরায় কোনো চেয়ারে বা শক্ত স্থানে বসে মাথা ঘোরা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার। এতে করে শরীর মধ্যাকর্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় পায়। তা না হলে অনেক সময় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দেয়।
সুতরাং, যদি আপনারও হুট করে দাঁড়ালে মাথা ঘোরার প্রবণতা থাকে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরে ধীরে ওঠার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন। তবে ঘনঘন এই সমস্যা হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যাতে অন্তর্নিহিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে তা শনাক্ত করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যায়।