স্বপ্ন শুধু ‘আমরা দু’জন’? কেন শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকা পুরুষরা স্বামী হিসেবে বেশি ভালো হন!

বর্তমান শহুরে জীবনে অনেক মেয়েই বিয়ের পর শুধু স্বামী-স্ত্রী নিয়ে একটি ছোট সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। একক পরিবারে থাকার এই ধারণা এখন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সত্যিটা হলো, যারা মা-বাবার সঙ্গে একত্রে একই পরিবারে বাস করেন, সেই ছেলেরা স্বামী হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে বেশি ভালো প্রমাণিত হন এবং তাদের সঙ্গে জীবনটা তুলনামূলকভাবে বেশি সুখেই কাটে। এই ধারণাটি অনেকের কাছে বিপরীত মনে হলেও, এর পেছনে বেশ কিছু শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে।

জেনে নিন কেন মা-বাবার সঙ্গে থাকতে আগ্রহী ছেলেরা পাত্র হিসেবে বেশি ভালো:

১. ঝগড়া-বিবাদ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ:
যেসব ছেলেরা বিয়ের পর মা-বাবার সঙ্গে থাকেন, তারা স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ কম করেন। নিজেদের মা-বাবার কথা চিন্তা করে হলেও তারা কলহকে বেশি দূর গড়াতে দেন না। পরিবারে মুরুব্বীদের উপস্থিতি এবং তাদের প্রতি সম্মানবোধ অনেক সময় ছোটখাটো বিবাদকে বড় হতে দেয় না।

২. পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা কম:
পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং মা-বাবার তত্ত্বাবধানে থাকা ছেলেরা পরকীয়া ও অন্যান্য অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা কম দেখান। একদিকে মা-বাবার প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ থাকে, অন্যদিকে বাড়িতে সবসময়েই মুরুব্বী কেউ উপস্থিত থাকেন, যা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে।

৩. আর্থিক সুস্থিতি ও সঞ্চয়:
এই ধরনের ছেলেদের গড় উপার্জন ও সঞ্চয় সাধারণত বেশ ভালো হয়। মা-বাবার দায়িত্ব কাঁধে থাকলে ছেলেরা বেশি উপার্জনে আগ্রহী হন এবং দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবারও একটা সঞ্চয় থাকে, ফলে সংসার চালানোর একক চাপ অনেক ক্ষেত্রেই নিতে হয় না, যা আর্থিক নিরাপত্তা এনে দেয়।

৪. ধৈর্যশীল ও সমঝোতাকারী:
একই পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোনের সঙ্গে থাকা ছেলেরা অনেক বেশি ধৈর্যশীল হয়ে থাকেন। তারা ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ঝামেলায় মাথা ঠান্ডা রাখা এবং সবার সঙ্গে ভাগ করে, মানিয়ে ও সমঝোতা করে চলতে শেখেন। এই গুণগুলো একটি দাম্পত্য সম্পর্ককে মজবুত করতে অত্যন্ত সহায়ক।

৫. সন্তানের জন্য ভালো বাবা:
যারা মা-বাবার সঙ্গে বড় হন, তারা বাবা হিসেবেও অনেক ভালো হন। নিজের জীবনে মা-বাবার স্নেহ-ভালোবাসার মূল্যটা তারা খুব ভালো করে বোঝেন। ফলে নিজের সন্তানের জন্য সময়, স্নেহ ও ভালোবাসার অভাব হয় না তাদের। তারা সন্তানদের পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব শিখিয়ে বড় করেন।

৬. রোমান্সের সময় কমে না, বরং বাড়ে:
অনেক মেয়েই মনে করেন যে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকলে স্বামীর সঙ্গে রোমান্সের সময় কম পাবেন কিংবা দুজনের মাঝে বন্ধন গড়ে উঠবে না। এই ধারণাটি আসলে উল্টো। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকলে যেমন অনেকগুলো দায়িত্ব বাড়তি থাকে, তেমনি অনেক দায়িত্ব আবার কমেও যায়। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর তারা দাদা-দাদীর কাছেই বেশি থাকে, ফলে দম্পতিরা নিজেদের জন্য অনেকটা ব্যক্তিগত সময় এবং নির্ভারতা পান।

সুতরাং, আধুনিক একক পরিবারের স্বপ্ন যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, মা-বাবার সঙ্গে থাকা পুরুষদের মধ্যে একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল পারিবারিক জীবন গড়ার উপযোগী গুণাবলী অনেক বেশি পরিমাণে দেখা যায়, যা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য অপরিহার্য।