সন্তানের ছবি ফেসবুকে দিচ্ছেন? ডেকে আনছেন ভয়াবহ বিপদ!

ফেসবুক আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছবি, ভিডিও, কমেন্ট, স্ট্যাটাস – মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অনেকের কাছে ফেসবুক এখন নেশার মতো, এটি ছাড়া এক মুহূর্তও থাকা কঠিন।

তবে, বেশিরভাগ মানুষই ফেসবুকে তাদের পারিবারিক বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে থাকেন। সন্তানের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার প্রবণতা আজকাল বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু মনোবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস মোটেও নিরাপদ নয়, বিশেষত কন্যা শিশুদের ক্ষেত্রে।

আপনি হয়তো আপনার মেয়ের নাচ, গান, খেলা বা মিষ্টি কথা বলার ভিডিও আনন্দ করে পোস্ট করছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, ভার্চুয়াল জগতের সকলের মানসিকতা এক নয়। সামান্য অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিপদ। পরিচিত ফেসবুক বন্ধুরা অজান্তেই আপনার সন্তানের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকে শেয়ার করা শিশুদের ছবি ও ভিডিও অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। অনেকেই লাইক ও কমেন্ট করেন, যা বাবা-মাকে আনন্দ দেয়। তবে এটাই ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক বাবা-মা অতি আনন্দে শিশুর প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড, এমনকি স্নানের ছবিও পোস্ট করেন, যা একেবারেই অনুচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে বিষয়গুলো আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, আমরা সেগুলোর প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হই। শিশুদের স্পর্শকাতর ছবি, ভিডিও বা স্টোরি নিয়মিত পোস্ট করার প্রবণতা অভিভাবকদের মধ্যে দেখা যায়। পারিবারিক ভালোলাগা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে গিয়ে তারা অনেক সময় ঝুঁকির বিষয়টি উপলব্ধি করেন না। শিশুদের পোস্ট বেশি জনপ্রিয় হওয়ায়, তাদের প্রতি অনেকের নেতিবাচক অনুভূতিও কাজ করতে পারে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, শিশুদের এই ব্যক্তিগত ছবি পেডোফিলিক ব্যক্তিদের (যারা শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করেন) কুনজরে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে মার্কিন সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন মেম্বার ডা. মো. সাঈদ এনাম (সাইকিয়াট্রিস্ট) যুগান্তরকে বলেন, “শিশুদের ছবি ফেসবুকে দেওয়া একদম ঠিক নয়। আর যদি দিতেই হয় তবে ছবিতে স্টিকার দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “শিশুরা যদি নিজের ছবি অন্যের ওয়ালে দেখে বা কোনো খারাপ মন্তব্য পড়ে তবে তাদের মানসিক সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যাকে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি-বিপর্যয় পরবর্তী মানসিক চাপজনিত রোগ) বলা হয়।”

এছাড়াও, স্পর্শকাতর ছবি থেকে শিশুর প্রতি অনেকের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।

সন্তানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার আগে কিছু জরুরি বিষয় অবশ্যই মনে রাখুন:

১. শিশুর ঘর থেকে স্কুলে যাওয়া-আসা, স্নানের ছবি, কথা বলা, গান বা নাচের ভিডিও ছবি দেবেন না।

২. শিশুকে আদর করা বা শিশু যত ছোট হোক তার শরীরের ব্যক্তিগত অংশ প্রকাশিত হয় এমন ছবি পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. অন্যের শিশুর ছবি পোস্ট করার আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিন।

আপনার সন্তানের নিরাপত্তা আপনার হাতে। সামান্য অসাবধানতা একটি নিষ্পাপ জীবনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ভার্চুয়াল জগতে শেয়ার করার আগে একবার ভাবুন, আপনার আনন্দ যেন আপনার সন্তানের কষ্টের কারণ না হয়।