শরীরে এই ধরনের ব্যথা হলেই সাবধান! হতে পারে ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ

ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে চিকিৎসার উন্নতির ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক সময় এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। লক্ষণ টের পেতে দেরি হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর কিছু করার থাকে না। অসুখটি ছড়িয়ে পড়লে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে থাকে।
ব্যথা ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ব্যথা হতে পারে এবং ধীরে ধীরে সেই ব্যথা বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের যেকোনো স্থানে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীরের কোথাও কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভূত হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
কোন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন, তা রোগীর ব্যথার ধরনের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। ব্যথার স্থান, বিস্তৃতি এবং তীব্রতা দেখে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র ক্যান্সারের ব্যথা সম্পর্কে অনেকেই অবগত থাকলেও, আরও কিছু ধরনের ব্যথা রয়েছে যা আমরা সাধারণত উপেক্ষা করে যাই। ক্যান্সারের ব্যথাকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. সোমাটিক ব্যথা:
ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে এই ধরনের ব্যথা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত স্থানে মোচড় দেওয়ার মতো অনুভূতি হয়। হাড়, পেশী বা ত্বকের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
২. নিউরোপ্যাথিক ব্যথা:
ক্যান্সারের কারণে স্নায়ুর ক্ষতি হলে এই ধরনের ব্যথা হয়। অনেক সময় কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা সার্জারির পরেও এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। নিউরোপ্যাথিক ব্যথায় আক্রান্ত স্থান জ্বলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয় এবং এটি তীব্র হতে পারে।
৩. ভিসারাল ব্যথা:
ভিসেরা বলতে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, যেমন বুক, পেট বা পেলভিসকে বোঝায়। এসব স্থানে কোনো ব্যথা হলে তাকে ভিসারাল পেইন বলা হয়। এই ব্যথায় আক্রান্ত স্থানে থরথর করে কাঁপার মতো অনুভূতি হতে পারে এবং এটি চাপা ধরনের ব্যথা হয়।
৪. তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা:
সাধারণত আঘাতের কারণে স্বল্পমেয়াদী ব্যথা হয়, যা সময়ে সময়ে আসে এবং চলে যায়। তবে ক্যান্সারের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
ক্যান্সারের ব্যথার লক্ষণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের ব্যথা নিস্তেজ, তীক্ষ্ণ এবং জ্বলন্ত হতে পারে। এই ব্যথা একটানা চলতে পারে এবং এর তীব্রতা মাঝারি থেকে গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ক্যান্সার কোনো কোষে বৃদ্ধি পেলে বা কোষকে ধ্বংস করলে ব্যথা শুরু হয়। ব্যথা যদি তীক্ষ্ণ এবং অবিরাম হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। চিকিৎসককে ব্যথার তীব্রতা, অবস্থান, ব্যথার ধরণ এবং ব্যথা বৃদ্ধিকারী কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে।
ক্যান্সারের ব্যথার পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়:
চরম ক্লান্তি
হঠাৎ রক্তপাত
আচমকা ওজন হ্রাস
ত্বকের পরিবর্তন (যেমন – নতুন তিল, পুরনো তিলের পরিবর্তন, হলদে ভাব)
চামড়া বা ত্বকে আচমকা গজিয়ে ওঠা মাংসপিণ্ড বা ফোলাভাব
শরীরের কোনো অংশে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভব করলে এবং উপরোক্ত লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব।