মুখ ধোয়ার সময় এই ১০ ভুল করছেন না তো? ত্বকের ক্ষতি এড়াতে জানুন সঠিক নিয়ম!

মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত মুখ ধোয়া। তবে ভুল পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার করলে যেমন আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না, তেমনই ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
রিডার্স ডাইজেস্ট মুখ পরিষ্কারের সময় আমরা যে সাধারণ ভুলগুলো করে থাকি, সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চলুন, সেই ভুলগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক এবং ত্বককে সুস্থ রাখার সঠিক নিয়মগুলোও জেনে নিই:
১. ভুল তাপমাত্রার জল ব্যবহার: মুখ ধোয়ার জন্য অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আবার খুব ঠান্ডা জল ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্রগুলো ঠিকমতো খোলে না, ফলে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হয় না। নিউ ইয়র্কের কসমেটিক ডার্মাটোলজিস্ট মিশেল গ্রিন পরামর্শ দেন, মুখ ধোয়ার জন্য কুসুম গরম জল সবচেয়ে উপযোগী। এটি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২. ঘন ঘন মুখ ধোয়া: যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের দিনে একবার এবং যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের দিনে দুবার মুখ পরিষ্কার করা উচিত। এর বেশি বার মুখ ধুলে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক বা আরও বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, সকালের চেয়ে রাতে মুখ পরিষ্কার করলে সারাদিনের ধুলো-ময়লা দূর হয় বলে মনে করেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির ডার্মাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডার্মা মোনা গোহরা।
৩. প্রায়ই স্ক্রাবিং করা: মুখের ত্বক পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে স্ক্রাবিং অপরিহার্য। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডার্মাটোলজিস্ট আইভি লি-র মতে, প্রতিদিন স্ক্রাবিং করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং ত্বকে ভাঁজ পড়তে পারে। এমনকি অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের প্রদাহের কারণও হতে পারে। সপ্তাহে একদিন স্ক্রাবিং করাই যথেষ্ট।
৪. ময়লা কাপড়ে মুখ মোছা: মুখ মোছার জন্য সর্বদা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করা উচিত। অপরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করলে তাতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ত্বকের সংস্পর্শে আসে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের কারণ হতে পারে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে অন্তত দুই-তিন দিন পরপর মুখ মোছার তোয়ালে বা কাপড় ধুয়ে ফেলুন।
৫. তোয়ালে বা কাপড় নরম না হওয়া: মুখ মোছার জন্য নরম তোয়ালে ব্যবহার করা উচিত। খসখসে কাপড় ব্যবহার করলে ত্বকের উপরিভাগের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ত্বকের মাধুর্য নষ্ট হতে পারে।
৬. ফেসিয়াল টিস্যু ব্যবহার: খুব প্রয়োজন না পড়লে ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত নয়। ডা. গ্রিন বলেন, ফেসিয়াল টিস্যু ত্বক সেভাবে পরিষ্কার করে না, বরং এতে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করলেও প্রতিদিনের অভ্যাসে এটি রাখা উচিত নয়।
৭. সাবানজাত ক্লিনজার ব্যবহার: কখনোই সাবানযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত নয়। ডা. গোহরা জানান, সাবানজাত ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে, ত্বককে শুষ্ক করে তোলে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, সাবানবিহীন ক্লিনজার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ত্বককে সুস্থ রাখে। ক্লিনজার কেনার আগে উপাদানগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।
৮. মুখ পরিষ্কারে বেশি বলপ্রয়োগ: মুখ থেকে ময়লা তোলার জন্য জোরে ঘষাঘষি করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আলতোভাবে ত্বক পরিষ্কার করাই যথেষ্ট।
৯. শুষ্ক অবস্থায় মুখ মোছা: মুখ ধোয়ার পর ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে মুখ মুছুন। শুষ্ক অবস্থায় ঘষলে ত্বকের জ্বালা প্রতিরোধকারী প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড উঠে যায়, ফলে ত্বক জীবাণু ও ময়লার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়ে।
১০. ময়েশ্চারাইজার লাগানোর জন্য অপেক্ষা: মুখ ধোয়ার পরপরই ত্বক কিছুটা ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার বা অন্যান্য ক্রিম লাগানো উচিত। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং প্রসাধনী ভালোভাবে শোষিত হয়। তবে ব্রণ চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বক শুকনো থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন ডা. গোহরা ও ডা. লি।
এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চললে এবং সঠিক নিয়মে মুখ পরিষ্কার করলে আপনার ত্বক থাকবে সুস্থ, উজ্জ্বল ও জীবাণুমুক্ত। ত্বকের যত্নে সচেতন হোন এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।