ব্যাড কোলেস্টেরল কমাতে চান? খাদ্য তালিকায় যোগ করুন এই ৭টি খাবার, দূরে থাকবে হৃদরোগের ঝুঁকি

বর্তমানে বহু মানুষ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আপনার রোজকার খাদ্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হার্টের সমস্যা থাকলে এমনিতেই খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। আর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে পছন্দের অনেক খাবারই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। তবে কিছু খাবার রয়েছে যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করে। আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলি:

১. বিভিন্ন ধরনের বাদাম:

আমন্ড এবং আখরোটের মতো বিভিন্ন ধরনের বাদাম খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই অল্প পরিমাণে খেতে হবে, কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে লাভের বদলে ক্ষতি হতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে আমন্ড এবং আখরোট খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

২. অলিভ অয়েল:

রান্নার ক্ষেত্রে সরষের তেল বা সাদা তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে অনেকের কাছে অলিভ অয়েলের গন্ধ পছন্দের নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরষের তেলের পরিমাণ কমিয়ে বাড়িতে রিফাইন তেলের ব্যবহার বাড়াতে পারেন।

৩. অ্যাভোকাডো:

অ্যাভোকাডোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা আমাদের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আপনি টোস্টের সঙ্গে অ্যাভোকাডো পেস্ট করে খেতে পারেন অথবা এমনিও এই ফল খাওয়া যায়। যদিও এর নিজস্ব তেমন কোনো স্বাদ নেই।

৪. বিভিন্ন ধরনের বিনস:

বিভিন্ন ধরনের ‘বিনস’ যেমন রাজমা খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। রাজমা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার এবং এটি খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টিরও জোগান মেলে।

৫. স্যামন মাছ:

স্যামন মাছের মধ্যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এই মাছে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত মাছও খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন। এই মাছগুলি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

৬. ওটস:

ওটস আজকাল অনেকেই ব্রেকফাস্টে খান, যা খুবই স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত ওটস খেলেও খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে নিতে পারেন। দুধ দিয়ে ওটস খেলে বিভিন্ন ফল যোগ করা যেতে পারে। ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে ঘন ঘন খাবার প্রবণতা কমে। এছাড়াও বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে।

৭. আপেল:

প্রতিদিন একটি আপেল খেলে হার্ট ভালো থাকে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এই ফল দারুণভাবে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আপেল খাওয়া উচিত নয়, এতে বিপরীত ফল হতে পারে।

এই সাতটি খাবার আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যোগ করে আপনি সহজেই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। সুস্থ জীবনযাপন এবং হৃদরোগমুক্ত থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।