বর্ষায় ঘরের যত্ন: ড্যাম্প ও জীবাণু থেকে মুক্তি পেতে কিছু জরুরি টিপস

বর্ষার ভেজা আবহাওয়া অনেকেরই প্রিয়। বারান্দায় বসে বৃষ্টি দেখতে ভালো লাগলেও, এই সময় বাড়ির ভেতরের এবং বাইরের অংশের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। একটানা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া বাড়ির কাঠামোর পাশাপাশি ঘরের ভেতরের পরিবেশকেও প্রভাবিত করে। তাই এই সময়ে বাড়ির বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণত, বর্ষার সময় বাইরের দেওয়াল সারাই বা রং করার মতো কাজগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। এই ধরনের কাজ শীতের রোদ ঝলমলে দিনে বা শুকনো গরমকালে সেরে ফেলা ভালো। তবে ঘরের ভেতরের যত্নের জন্য আপনি অনায়াসে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন।

পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন
আপনার ঘরগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাতাস চলাচল করে তো? গুমোট আর্দ্রতা যত বাড়বে, ঘরের ভেতর তত বেশি ড্যাম্প অনুভব হবে। বায়ু চলাচল থাকলে ঘর জীবাণুমুক্ত থাকবে, যা শিশু, বয়স্ক এবং হাঁপানি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার বাড়িতে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগী থাকেন, তবে কখনোই ঘরের ভেতর ভেজা কাপড় শুকাতে দেবেন না। এতে ড্যাম্প আরও বাড়বে। কাপড় শুকানোর জন্য ড্রায়ার ব্যবহার করা ভালো।

কাঠের মেঝে ও কার্পেটের যত্ন
কাঠের মেঝে যতটা সম্ভব শুকনো রাখুন। জল পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন, কারণ কাঠ জল শুষে ফেঁপে উঠতে পারে। তাই এই ঋতুতে কাঠের মেঝে শুকনো রাখা অত্যাবশ্যক।

ঘরের মেঝেতে বা দেওয়ালে যদি কার্পেট থাকে, তবে নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে পরিষ্কার করুন। অন্যথায় ধুলো এবং আর্দ্রতায় এর বেহাল অবস্থা হবে এবং দুর্গন্ধ বেরোবে। শতরঞ্জি, দারি ইত্যাদি গুটিয়ে রোল করে পলিথিন শিটে মুড়ে রাখুন এবং তার বদলে মাদুর পেতে ব্যবহার করতে পারেন।

কাঠের আসবাবপত্র ও আলমারির পরিচর্যা
আর্দ্রতার কারণে আপনার কাঠের আসবাবগুলি সামান্য ফেঁপে উঠতে পারে, যার ফলে দরজা ঠিকমতো বন্ধ করতেও অসুবিধা হতে পারে। বর্ষা আসার আগেই কাঠের আসবাবে একবার পালিশ করিয়ে নিলে এই সমস্যা এড়ানো যায়। কাঠের আলমারি বা জুতোর তাকের কোণের দিকে এক দলা করে কর্পূর বা ন্যাপথালিন রেখে দিন, এতে জামাকাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধ হবে না। সিলভার ফিশ (এক ধরনের ছোট পোকামাকড়) তাড়াতে শুকনো নিমপাতা সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়। তাই বইয়ের আলমারিতে অবশ্যই শুকনো নিমপাতা রাখুন, লবঙ্গও রাখতে পারেন।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে আনুন
একটানা ভ্যাপসা আবহাওয়া চলতে থাকলে এয়ার কন্ডিশনার এবং ডি-হিউমিডিফায়ারের সাহায্য নিতে পারেন। এতে ঘরের আর্দ্রতার মাত্রা কমবে এবং পরিবেশ আরামদায়ক থাকবে।

বিদ্যুতের ওয়্যারিং ও জানলার সুরক্ষা
বাড়ির ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং অবশ্যই একবার পরীক্ষা করিয়ে নিন। কোথাও কোনো লুজ় কানেকশন বা কাটা-ছেঁড়া থাকলে সেটা সারানোর ব্যবস্থা করুন, এতে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে।

জানলা খোলা রাখতেই হবে, না হলে ঘরের ভেতরটা ভ্যাপসা হয়ে যাবে। মশা-মাছির উপদ্রব কমাতে বাড়ির আশপাশে জল বা ময়লা জমতে দেবেন না। জানলায় পতঙ্গরোধী জাল লাগিয়ে নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বৃষ্টির সময় জানলা বন্ধ থাকলেও যদি চুঁইয়ে চুঁইয়ে জল ঢোকে, তার মানে আপনার জানলার ফ্রেমে কোথাও ফাঁক রয়েছে। এই সমস্যাটা সারিয়ে নিলেই দেখবেন আপনার এসির বিলও ক্রমশ কমছে, কারণ ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারবে না।

ছাদের যত্ন
প্রতিদিন ছাদ পরিষ্কার করুন এবং নিশ্চিত করুন যে রেনওয়াটার পাইপ যেন প্লাস্টিক বা অন্য কিছু আটকে বন্ধ না হয়ে যায়। ছাতে জল জমে গেলেই তা কংক্রিটের মধ্যে দিয়ে চুঁইয়ে দেওয়ালের দিকে নামবে, যার ফলে ঘরে জল পড়ার সমস্যা শুরু হতে পারে।