‘বাংলার ভোট লুট হয়েছে, পুনর্নির্বাচন চাই!’ জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবিতে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা!

স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট (SIR) এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি ও বঙ্গ রাজনীতিতে ফের ভয়াবহ ঝড় উঠল। নির্বাচন কমিশনের ভেতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ‘বাংলার ভোট লুট হয়েছে’—এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে রাজ্যে পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কমিশনের অন্দরে ফাটল? ফাঁস হওয়া রিপোর্টে তোলপাড়
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের একটি রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, বিতর্কিত SIR সিদ্ধান্ত কার্যকর করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। কমিশনের দুজন শীর্ষ কমিশনার নাকি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন এবং লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই খবর সামনে আসতেই বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন যে, নিরপেক্ষতা হারিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই বিতর্কের জবাবে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতি জারি করে সাফ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক সংস্থায় যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অভ্যন্তরীণ মতামত, আলোচনা এবং ভিন্নমত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। একে কোনও ধরনের ‘ফাটল’ বা ‘বিতর্ক’ হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
“জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করা হোক”, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সরব মমতা
কমিশনের অন্দরের এই বিতর্কের খবর সামনে আসতেই সুর মারাত্মক চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “SIR এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাংলার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে জালিয়াতি করে ভোট লুট করা হয়েছে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি নিশানায় তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং SIR-এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে দাবি করে তিনি অবিলম্বে পুরো নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট করানোর দাবি জানান।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই জটিলতা ও নির্বাচন কমিশনের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জলঘোলা আগামী দিনে আরও বড় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিতে পারে।