পিরিয়ডের সময় এই ৯টি লক্ষণ কি আপনারও দেখা যায়? দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নিলে হতে পারে মারাত্মক রোগ!

নারীদের জন্য ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, ঋতুস্রাব চলাকালীন তলপেটে ব্যথা, মুড সুইং বা স্তন ফুলে যাওয়ার মতো কিছু লক্ষণ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে এসব লক্ষণ যখন অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তা শরীরের বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। নিয়মিত ঋতুস্রাব না হলে, বা এর সঙ্গে অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ঋতুস্রাবের সেই ৯টি লক্ষণ, যা অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা মারাত্মক কোনো অসুখের কারণ হতে পারে:
১। অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ: ঋতুস্রাবের প্রথম দু’দিন সামান্য বেশি রক্তক্ষরণ স্বাভাবিক। কিন্তু ঋতুস্রাব চলাকালীন যদি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলাতে হয়, তবে এটি অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের লক্ষণ। নিয়মিত এমন সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
২। ৭ দিনের বেশি ঋতুস্রাব: ঋতুস্রাব যদি সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি দিন ধরে চলে (৭ দিনের বেশি), তবে তা আশঙ্কার বিষয়। অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের ফলে শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে বা এটি জরায়ুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণও হতে পারে।
৩। ঋতুস্রাব দেরিতে শুরু বা বন্ধ হওয়া: মেয়েদের ১৬ বছর বয়সের মধ্যে ঋতুস্রাব শুরু না হলে তাকে ‘প্রাইমারি অ্যামেনোরিয়া’ বলে। আবার শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে তাকে ‘সেকেন্ডারি অ্যামেনোরিয়া’ বলা হয়। এই দুটি ক্ষেত্রেই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৪। ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া): হালকা ব্যথা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যথা যখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায় এবং এর সঙ্গে ডায়রিয়া, মাথাব্যথা বা বমিভাব থাকে, তখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। এটি জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
৫। অনিয়মিত ঋতুস্রাব: জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক অবসাদের কারণে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হতে পারে। তবে কারণ ছাড়া যদি ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়, তবে তা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য মারাত্মক রোগের লক্ষণ হতে পারে।
৬। ঋতুস্রাবের সময় স্তনে অতিরিক্ত ব্যথা: ঋতুস্রাবের আগে বা চলাকালীন হালকা স্তনে ব্যথা হওয়া প্রচলিত সমস্যা। তবে ব্যথা যদি অতিরিক্ত হয় বা স্তনে চাকাভাব অনুভব করা যায়, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণ স্তনের চাকাভাব থেকে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।
৭। তীব্র ডায়রিয়া বা বমি ভাব: ঋতুস্রাবের সময় জরায়ু থেকে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন্স (Prostaglandins) নামক রাসায়নিক নিঃসরণের কারণে ডায়রিয়া বা বমিভাব দেখা দিতে পারে। যদি এই লক্ষণগুলো খুব গুরুতর পর্যায়ে দেখা দেয়, তবে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৮। মুড সুইং (PMS): ঋতুস্রাবের আগে ও পরে মেজাজ খিটখিটে থাকা বা অবসাদ অনুভব করাকে ‘পোস্ট মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম’ (PMS) বলে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এটি হয়। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন বা মেডিটেশন এক্ষেত্রে ভালো ফল দিতে পারে।
৯। মাইগ্রেন বা অসহনীয় মাথাব্যথা: সমীক্ষায় দেখা গেছে, বহু নারী ঋতুস্রাব চলাকালীন মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের শিকার হন। তবে এই মাথাব্যথা যদি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।