পাসওয়ার্ডের দিন শেষ! গুগল আনছে নতুন সুরক্ষা কবচ ‘পাসকি’

ই-মেল থেকে শুরু করে হাজারো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন ব্যাংকিং থেকে OTT প্ল্যাটফর্ম – বর্তমানে সবকিছুতেই পাসওয়ার্ড অপরিহার্য। এই সুরক্ষা চাবিটি হারিয়ে গেলে বা ভুলে গেলে কার্যত সবকিছুতেই তালা লেগে যাওয়ার জোগাড়। একাধিক প্ল্যাটফর্মের জটিল পাসওয়ার্ড মনে রাখা যেমন ঝক্কির কাজ, তেমনই কোথাও লিখে রাখলে তা ফাঁস হওয়ার ভয়ও লেগেই থাকে। তবে এবার এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে স্বয়ং গুগল।
গুগল ক্রোম এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা শীঘ্রই পাসওয়ার্ড ছাড়াই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন। গুগল নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী নতুন ফিচার – ‘পাসকি’ (Passkey)। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যেমন আর পাসওয়ার্ড মুখস্থ করার প্রয়োজন হবে না, তেমনই টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের সুবিধা থাকায় ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টগুলির নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে।
আসলে কী এই পাসকি?
পাসকি হল পাসওয়ার্ডের বিকল্প এক অত্যাধুনিক সাইন-ইন পদ্ধতি। ওয়ার্ল্ড ওয়েব কনসোর্টিয়াম (W3C) এবং FIDO অ্যালায়েন্স যৌথভাবে এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে। পাসকির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কেবল একটি পিন নম্বর অথবা তাদের বায়োমেট্রিক ডেটা (যেমন আঙুলের ছাপ বা মুখের স্ক্যান)-এর মাধ্যমেই যেকোনো ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে অনলাইন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি শুধুমাত্র একটি পাবলিক কি সংরক্ষণ করে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রিপ্টোগ্রাফিক কিগুলি ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই নিরাপদে সঞ্চিত থাকে। যখন কোনো ব্যবহারকারী লগইন করতে চান, তখন সেই প্রাইভেট কি-টির প্রয়োজন হয়। ব্যবহারকারী তার ডিভাইসের লক খোলা মাত্রই বাকি কাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে হ্যাকারদের পক্ষে এই সুরক্ষা ভেদ করা প্রায় অসম্ভব।
কীভাবে ব্যবহার করবেন এই নতুন ফিচার?
বর্তমানে, এই ‘পাসকি’ ফিচারটি শুধুমাত্র ডেভেলপারদের ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সকল অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা তাদের গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ছাড়াই যেকোনো ওয়েবসাইট ও অ্যাপে নিরাপদে লগইন করতে পারবেন। প্রযুক্তি যে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে আরও সহজ ও সুরক্ষিত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে এই নতুন ফিচারটি সকলের হাতের মুঠোয় আসে।