পাতলা ভুরুর কারণ শুধু জিন নয়! এই রোগগুলোও হতে পারে দায়ী

একজোড়া ঘন কালো ভুরু চোখ ও মুখের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। তবে সকলের ভুরুর ঘনত্ব একরকম হয় না। কারও ভুরু বেশ ঘন থাকে, আবার কারও বা পাতলা। যাদের ভুরু পাতলা, তাদের মনে আক্ষেপের শেষ নেই। ভুরু ঘন করার জন্য অনেকেই ক্যাস্টর অয়েলসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন।

তবে জানেন কি, শুধুমাত্র জিনগত কারণে নয়, বিভিন্ন রোগের কারণেও আপনার ভুরু পাতলা হয়ে যেতে পারে? অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো অসুস্থতার জন্য ভুরুর লোম ঝরতে শুরু করে। ত্বকে কোনো সংক্রমণ হলে কিংবা শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলেও ভুরু পাতলা হয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো জটিল রোগ শরীরে বাসা বাঁধলেও ভুরুর লোম ঝরে যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন রোগের কারণে ভুরুর ঘনত্ব পাতলা হয়ে যায়:

১. থাইরয়েড রোগ:

শরীরে থাইরয়েড রোগ বাসা বাঁধলে এমনটা হতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের অভাব) ও হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য) – এই উভয় ক্ষেত্রেই রোগীর চুল ঝরতে শুরু করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণেই আপনার ভুরুর ঘনত্ব কমতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা চুলের ফলিকলকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে চুল ঝরে যায়।

২. অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা:

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন ভুল করে চুলের ফলিকলে আক্রমণ করে, তখন সেই অবস্থাকে অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা বলা হয়। মাথার তালু ও মুখেই এই রোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে মাথার তালুতে গোল গোল চাকতির মতো টাক হয়ে যায়। এমনকি ভুরুর লোমও ঝরতে শুরু করে। অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটার কারণে ভুরুর লোম সম্পূর্ণভাবে উঠে যেতে পারে।

৩. অ্যাকজিমা ও পোরিওসিস:

অ্যাকজিমা ও পোরিওসিস হলো ত্বকের প্রদাহজনিত দুটি রোগ। এই রোগগুলোর কারণে ত্বকে চুলকানি ও র‍্যাশ হতে পারে। লালচে ছোপ সারা মুখে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এই দুটি রোগের কারণেও ভুরুর লোম ঝরতে পারে। ত্বকের প্রদাহ ভুরুর ফলিকলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে লোম দুর্বল হয়ে ঝরে যায়।

যদি আপনি হঠাৎ করে আপনার ভুরুর ঘনত্ব কমে যেতে দেখেন, তাহলে কেবল প্রসাধনীর উপর নির্ভর না করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে ভুরুর লোম ঝরা বন্ধ করা এবং পুনরায় ঘনত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।