পাইলস বা অর্শ? সঠিক খাদ্যাভ্যাসেই মিলবে মুক্তি!

পাইলস বা অর্শ? সঠিক খাদ্যাভ্যাসেই মিলবে মুক্তি!
দিনিহাটা, ১৫ই মে, ২০২৫: পাইলস বা অর্শ একটি অস্বস্তিকর রোগ, যা নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন এটি কেবল বয়স্কদের রোগ, তবে মূলত খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে যেকোনো বয়সের মানুষ এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।

এই রোগে মলদ্বারের ভেতরের শিরা ফুলে ওঠে, যার ফলে প্রদাহ এবং রক্তপাত দেখা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এই সমস্যা আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। ভারতের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পূর্ণব্রত গুঁই জানান, পাইলস কেবল মানুষেরই হয় এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত জল পানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটি সরাসরি বংশগত রোগ না হলেও, পরিবারের খাদ্যাভ্যাসের কারণে বংশের পরবর্তী প্রজন্মেও এই রোগ দেখা যেতে পারে।

মলদ্বারের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাইলস শনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক পথ্য ও খাদ্যাভ্যাস রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পাইলস হলে যা খাবেন:

দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি: আপেল, নাশপাতি, গাজর, ব্রকলি এবং মটরশুঁটির মতো খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক এবং অর্শরোগীদের কষ্ট কমাতে পারে। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও অপরিহার্য।
প্রচুর পরিমাণে জল: পর্যাপ্ত জল পান করলে দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং মল নরম হয়, যা মলত্যাগ সহজ করে তোলে।
ডাল, মটরশুঁটি ও রাজমা: এই খাবারগুলো ফাইবার এবং প্রোটিনের ভালো উৎস, যা অর্শ রোগীদের জন্য উপকারী।
হোল গ্রেন: ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল, আটা এবং অন্যান্য শস্যজাত খাবার ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত।
কলা: নিয়মিত কলা খেলে তা মল নরম করতে সাহায্য করে।
যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন:

কম ফাইবার যুক্ত খাবার: প্রক্রিয়াজাত দানা শস্য এবং ফাইবার কম থাকা খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত, কারণ এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে।
দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, পনির বা চিজের মতো দুগ্ধজাত খাবার সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত, কারণ এগুলো কারো কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।
মাংস: বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলস রোগীদের মাংস খাওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে বাজারচলতি প্রক্রিয়াজাত মাংস অর্শের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার: অতিরিক্ত তেল, মসলা ও লবণযুক্ত খাবার পেটের গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং অর্শের সমস্যা বাড়াতে পারে।
ধূমপান ও মদ্যপান: এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা জরুরি, কারণ এগুলো পাইলসের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পাইলসের সমস্যায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি এই নিয়মগুলো মেনে চললে অর্শরোগীরা অনেকটাই সুস্থ বোধ করতে পারেন।