স্বপ্ন দেখার জায়গা নাকি রণক্ষেত্র! SRFTI সংঘর্ষ নিয়ে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য

সিনেমা অনেকের কাছেই নিছক কোনো পেশা নয়, বরং আজীবন স্বপ্ন দেখার এক বিরাট রাস্তা। অন্যান্য পেশার তুলনায় অনিশ্চয়তা অনেক বেশি জানা সত্ত্বেও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সাহসের সঙ্গে সেই অনিশ্চিত পথেই পা বাড়ান। তাঁদের সামনে বিকল্পের কোনো অভাব থাকে না, বরং থাকে অসংখ্য সম্ভাবনা। সেই সুনির্দিষ্ট ভাবনা থেকেই তাঁরা চলচ্চিত্রকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন। আর সেই সুপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার তাগিদেই পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা ছুটে আসেন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ভারতের ক্ষেত্রে সেই স্বপ্ন অনুসন্ধানের অন্যতম দুই প্রধান প্রাণকেন্দ্র হল এফটিআইআই (FTII) এবং এসআরএফটিআই (SRFTI)।
কিন্তু সম্প্রতি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে (SRFTI) ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনা গোটা দেশের শিক্ষা মহলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এটি শুধু একটি ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে চলচ্চিত্র শিক্ষার পবিত্র পরিসর এবং তার মূল উদ্দেশ্যকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গত রবিবার SRFTI-র মূল থিয়েটারে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের তীব্র সংঘর্ষ বাধে। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের উপর আক্রমণ চালানো হয়। অন্যদিকে, আয়োজকদের পাল্টা দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে চলচ্চিত্র শিক্ষার এই মুক্ত পরিসর এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হাজারও তরুণের স্বপ্নের কথা। কৌশিকের মতে, যে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সিনেমাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন এই পেশার অনিশ্চয়তার কথা। তারা আর্থিক নিশ্চয়তা বা সহজ উপার্জনের তাগিদে এখানে আসেননি, এসেছেন কেবল সৃজনশীলতার টানে। তাই দেশের এই জাতীয় চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির গুরুত্ব কেবল একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার করা চলে না; এগুলি মূলত আগামী দিনের স্বপ্ন তৈরির কারখানা।
পরিচালক আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতেও এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন বা বিক্ষোভ হয়েছে, তবে সেগুলি মূলত অভ্যন্তরীণ দাবি-দাওয়া ও প্রশাসনিক বিষয়কে ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল। রবিবারের এই ঘটনা সেই অর্থে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত উদ্বেগের। বিশেষ করে, জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ বাইরে কোনো অনুষ্ঠান বা সংগঠনকে ভাড়া দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের আদর্শ ও শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে আদৌ সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, বিষয়টি যদি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিমণ্ডলের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক না হয়, তবে এটিকে আর দশটি বেসরকারি ব্যাঙ্কোয়েট হলের মতো ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।