কৃষক বন্ধুর টাকা পেতে নতুন করে ফর্ম, রাজ্যের কৃষকদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা জারি

রাজ্যের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তির খবর। কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি, যোগ্য প্রধানমন্ত্রী কিষান (PM KISAN) উপভোক্তাদের কেন্দ্রীয় অনুদানের সঙ্গে অতিরিক্ত বার্ষিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা সঠিকভাবে পেতে হলে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে নথি যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের হাতেই পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই উপভোক্তাদের তথ্য নতুন করে যাচাই করার কাজ শুরু করেছে রাজ্য কৃষি দফতর। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কিন্তু এখনও নির্ধারিত ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য ফের ফর্ম জমা দেওয়ার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যোগ্য উপভোক্তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও নথি জমা দিতে হবে।
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত দিনে অনেক অযোগ্য উপভোক্তাও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই প্রকৃত কৃষকদের অধিকার সুরক্ষিত করতে এই তথ্য পুনর্নবীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের রেকর্ড বর্তমানে পিএম-কিষাণ ডেটাবেসের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ সুবিধাভোগীদের সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
ফর্ম জমা দেওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি আধিকারিকের অফিসে সমস্ত প্রয়োজনীয় ফর্ম ও নথি জমা দিতে হবে। ব্লক ও স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে। যাঁদের মোবাইল নম্বর কৃষক বন্ধু ডেটাবেসে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁদের এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমেও সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে।
যাতে কোনো প্রকৃত কৃষক নির্ধারিত সময়ে ফর্ম জমা দিতে না পারার কারণে প্রকল্পের বাইরে না চলে যান, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগস্ট মাসের পরেও ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা অব্যাহত রয়েছে।
কোন কোন নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
ফর্ম জমা দেওয়ার সময় সঠিক তথ্যের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। তার মধ্যে প্রধানত রয়েছে:
উপভোক্তার সঠিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত উপভোক্তার পরিচয়পত্র বা নম্বর সংক্রান্ত তথ্য।
উপভোক্তার নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর প্রাসঙ্গিক যোগাযোগের তথ্য।
জমির পরিমাণ এবং বৈধ জমি সংক্রান্ত খতিয়ান বা পর্চার কপি।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
পাশাপাশি, যে সমস্ত উপভোক্তার মোবাইল নম্বর ইতিমধ্যেই কৃষক বন্ধু ডেটাবেসে সঠিকভাবে রয়েছে, তাঁরাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করে তথ্য জমা দিতে পারবেন।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার অঙ্ক
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কৃষকদের জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এক একর বা তার বেশি জমি যাঁদের রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পান। এই টাকা সাধারণত দুটি কিস্তিতে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। যাঁদের জমির পরিমাণ এক একরের কম, তাঁরাও আনুপাতিক হারে এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।
চাষের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এই প্রকল্পের আরেকটি অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো মৃত্যুকালীন আর্থিক সহায়তা। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনো নথিভুক্ত কৃষকের আকস্মিক মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়, যা অনেকটা জীবন বিমার মতো কৃষক পরিবারগুলিকে বড় সুরক্ষা প্রদান করে।