হিমালয়ের কোলে ঘোর দুর্যোগ! প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল, জারি হাই অ্যালার্ট

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে নেপালে গত চারদিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণ, বন্যা এবং ভয়াবহ ভূমিধসে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল ভূমিধসের কারণেই ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি, আকস্মিক বন্যায় ৪ জন এবং অবিরাম ভারী বৃষ্টির জেরে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বিপর্যয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪৭টি পরিবার। ২৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং আরও ৮০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া এবং লাগাতার ধস নামার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। জাজারকোট, ম্যাংদি এবং শঙ্খুয়াসভার মতো দুর্গম পাহাড়ি জেলাগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশের ৭৭টি জেলা প্রশাসন এবং তিনটি জাতীয় নিরাপত্তা সং সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় বা হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
টানা বৃষ্টির জেরে দেশের ১০৬টি জায়গায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নওয়ালপরাসির দুমকুয়ালিতে, যেখানে রেকর্ড পরিমাণ ৪৫৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া পোখরায় ৪০৭.২ মিলিমিটার এবং তনহুঁর আঁবু খাইরেনিতে ৩৭৩.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। নদীগুলোর জলস্তর হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। মানাংয়ের চামেতে ধসের কারণে মার্সিয়াংদি নদীর গতিপথ আংশিক আটকে যাওয়ায় এবং মুস্তাংয়ে কালী গণ্ডকী নদীর জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নিচের দিকের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দুর্যোগের এই সময়ে নেপালে প্রায় ৯ হাজার বিদেশি পর্যটক ও ট্রেকার অবস্থান করছিলেন। পর্যটক ও পর্বতারোহীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড এবং স্থানীয় ট্রেকিং সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং সমস্ত ট্রেকিং যাত্রা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।