ধূমপান কি শুধুমাত্র ফুসফুসের শত্রু? জেনে নিন বন্ধ্যাত্বে এর ক্ষতিকর প্রভাব

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এই তথ্যটি সবারই জানা। তবুও ধূমপায়ীরা এই অভ্যাস থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, শুধু ক্যানসার নয়, ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে একটি দিক প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়, তা হলো ধূমপানের কারণে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

অনেকেরই ধারণা ধূমপান কেবল ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু এই ধারণাটি ভুল। ধূমপান পুরো শরীরের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ইউরোপিয়ান ইউরোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ইউরোপের প্রায় ৫০০০ পুরুষের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ধূমপানের ফলে অনেক পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কমে গেছে। একইসঙ্গে শুক্রাণুর গতিবিধি এবং গঠনগত সমস্যাও দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যারা আগে থেকেই বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ধূমপানের প্রভাব আরও বেশি প্রকট হয়। অন্যদিকে, যারা কম ধূমপান করেন, তাদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও কম।

ধূমপানের সঙ্গে শুক্রাণুর মানের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের আমরি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রুদ্রজিৎ পাল বলেন, “ধূমপানের সঙ্গে অবশ্যই স্পার্মের মান কমে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। এই সমস্যা শুধু পুরুষ নয়, নারীদেরও হতে পারে। পরোক্ষ ধূমপানও এই ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়া, জরদা, খৈনি, বা পান-মসলার মতো তামাকজাত পণ্য খেলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।”

সুতরাং, ধূমপান বা যেকোনো ধরনের তামাক সেবন কেবল ক্যানসার নয়, বরং প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই সুস্থ জীবনের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।