তীব্র মাথাব্যথা কি শুধু মাইগ্রেন? জানুন কারণ ও মুক্তির উপায়

হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথায় অনেকেই কাবু হয়ে পড়েন। সাধারণ মাথাব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে মাইগ্রেন হলো এক বিশেষ ধরনের তীব্র মাথাব্যথা। এই ব্যথা সাধারণত মাথার যেকোনো একপাশ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে, সঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব হয়।
চিকিৎসকদের মতে, মাইগ্রেনের সময় মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বাইরের আবরণে থাকা ধমনীগুলো মাথাব্যথা শুরুর দিকে ফুলে ওঠে। ব্যথা যত বাড়তে থাকে, ততই বমি বমি ভাব এবং এমনকি রোগীর দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যারা এই ব্যথায় ভোগেন, তারাই জানেন এটি কতটা কষ্টদায়ক। নারী-পুরুষ উভয়েরই মাইগ্রেন হতে পারে, তবে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
এই ব্যথার মূল কারণ কী?
মাইগ্রেনকে মূলত জিনগত রোগ হিসেবে ধরা হয়। পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের যদি এই সমস্যা থাকে, তাহলে আপনারও মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। মস্তিষ্কের ট্রাইজেমিনাল নার্ভ উত্তেজিত হলে এই ব্যথা শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মস্তিষ্কের সেরেটোনিন নামক রাসায়নিকের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হয়ে থাকে।
পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রকোপ বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো হরমোনের পরিবর্তন। নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামার কারণে মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়ে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালে প্রথম ঋতুস্রাবের সঙ্গেই মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে দেখা যায়।
এছাড়াও, যারা ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল সেবন করেন, তাদের মধ্যেও এই মাথাব্যথার সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার কিছু নারীর জরায়ু অস্ত্রোপচারের পর হরমোন থেরাপির ওষুধ গ্রহণের ফলেও মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খেলে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলো:
বাদাম: কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ও আখরোটে ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান থাকে যা মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন।
ওটস: ওটস রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
জল: জলের অপর নাম জীবন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে অপরিহার্য। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস জল পান করলে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ খাবার: শরীরে ভিটামিন বি-২ এর পরিমাণ বাড়ালে মাইগ্রেনের ব্যথা কম হতে পারে। মাছ, মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত খাদ্য, চিজ এবং বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-২ পাওয়া যায়।
হার্বাল চা: মাথাব্যথার সময় অনেকেই চা পান করে আরাম পান। এক্ষেত্রে আদা কুঁচি ও লেবু দিয়ে তৈরি হারবাল চা খুবই উপকারী। এটি ব্যথার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
গোলমরিচ: গোলমরিচে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে রক্ষা করতে পারে। এক কাপ গরম জলে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। এর সাথে সামান্য মধু ও লেবুর রসও মেশানো যেতে পারে।
সুতরাং, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হলে শুধু তাকে মাইগ্রেন ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যদি ঘন ঘন এই ধরনের ব্যথা অনুভব করেন, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, উপরে উল্লেখিত খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করে মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।