ডায়াবেটিস থাকলে ছোট রোগও হতে পারে মারাত্মক! রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই উপায়ে

গত কয়েক দশকে ডায়াবেটিস একটি পরিচিত রোগ হয়ে ওঠার কারণে আজকাল অনেকেই এটিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস কেবল রক্তে শর্করার মাত্রাই বাড়ায় না, সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে এটি হৃদরোগ এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি অনেকেই জানেন না যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সাধারণ ঠান্ডা, ফ্লু এবং অন্যান্য ছোটখাটো সংক্রমণ থেকেও সেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

ডায়াবেটিস হলে অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা কঠিন কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার সময় আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিস (DKA) এবং হাইপারসমোলার হাইপারগ্লাইসেমিক সিন্ড্রোম (HHS)। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের পক্ষে রোগের সঙ্গে লড়াই করা এবং দ্রুত সুস্থ হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় কেন?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে বিভিন্ন রোগ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, যখন কোনো ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হন, তখন তাদের শরীর চাপের প্রতিক্রিয়ায় কিছু কাউন্টার-নিয়ন্ত্রক হরমোন তৈরি করে। এছাড়াও, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার সময় স্টেরয়েডের মতো কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এই দুটি কারণই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শরীরে ইনসুলিনের চাহিদাও বেড়ে যায়, যা পূরণ করা আমাদের শরীরের জন্য কঠিন মনে হতে পারে। ফলস্বরূপ, শরীর জ্বালানি হিসেবে চর্বি পোড়াতে শুরু করে এবং কিটোন তৈরি হয়, যা রক্তে উচ্চ মাত্রায় বিষাক্ততা সৃষ্টি করতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

যারা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন, তারা একটি সুশৃঙ্খল খাদ্যতালিকা মেনে চলে এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার মূল স্তম্ভ চারটি – সঠিক খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, সময় মতো ওষুধ গ্রহণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। একটি সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলতে হবে যাতে প্রোটিন এবং ফাইবার বেশি থাকে, তবে কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বির পরিমাণ কম থাকে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কী খাওয়া উচিত?

একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাদ্য রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুষম খাদ্য তাদের দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাকে স্থিতিশীল রাখে। তাই, ছোটখাটো সর্দি হোক কিংবা যেকোনো ধরনের অসুস্থতা, রক্তে শর্করার মাত্রার প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা চিনি, গুড়, মধু এবং মিহি আটা থেকে তৈরি খাবার যেমন পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এমনকি তৈলাক্ত খাবার খাওয়াও কমাতে হবে, কারণ এগুলো শরীরের চর্বি বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণের উপর মনোযোগ দেওয়া অত্যাবশ্যক, যা রোগীর শরীরের ওজন এবং কার্যকলাপের স্তরের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে, ডায়াবেটিস রোগীদের শক্তি-ঘন খাবার, ভাজাভুজি এবং ফাস্ট ফুড এড়িয়ে উচ্চ ফাইবার এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

কখন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের সাধারণভাবে প্রতি ৩-৬ মাস অন্তর অথবা তাদের সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। এছাড়াও, গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করার আগে, গর্ভাবস্থায়, কোনো পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের আগে অথবা অন্য কোনো ওষুধ গ্রহণ শুরু করার আগে যা তাদের গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করতে পারে, সেক্ষেত্রেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সামান্য অসুস্থতাকেও অবহেলা না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

Deep Research

Canvas