গাঁটের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? এই ৪ খাবার ডেকে আনতে পারে আরও বিপদ!

আমরা যা খাই, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের পুষ্টির মাত্রার উপর। তাই খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত যারা জয়েন্টের ব্যথায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যতালিকার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী গাঁটের ব্যথা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লাইম ডিজিজ, গাউট বা লুপাসের মতো রোগের কারণ হতে পারে।

শুধু বয়স্করাই নন, আজকাল অল্প বয়সীরাও জয়েন্ট পেইনের সমস্যায় ভুগছেন। একটানা বসে কাজ করা, মানসিক চাপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত ওয়ার্কআউট এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের মতো কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু খাবারও কিন্তু এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থ্রাইটিসের কারণ হতে পারে। তাই জয়েন্ট পেইন এড়াতে এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ—

১. চিনি:

অতিরিক্ত চিনি কখনোই শরীরের জন্য উপকারী নয়। বরং চিনি থেকে যতটা দূরে থাকা যায়, ততই ভালো। বেশি চিনি খেলে শরীরে সাইটোকাইনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। আর এই কারণেই জয়েন্টে ব্যথা, জ্বালা ও ফোলাভাব বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকা থেকে চিনিকে বিদায় জানানোই শ্রেয়। মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক মিষ্টি ফল বেছে নিতে পারেন।

২. এমএসজি (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট):

মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি একটি যৌগ, যা মূলত খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি স্বাদ বৃদ্ধি করলেও জয়েন্ট পেইনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেইসঙ্গে সারা শরীরে জ্বালা এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুডে এমএসজি থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যা এড়িয়ে চলা উচিত।

৩. গ্লুটেন:

গ্লুটেন হলো এক ধরনের প্রোটিন যা মূলত গম, রাই, বার্লি ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। এটি এক ধরনের আঠালো পদার্থ, যা বেকিংয়ের সময় খাবারকে ফোলাতে সাহায্য করে। পাউরুটি, পাস্তা, রুটি, কেক, সস, চিপস, বিয়ারের মতো খাবারে গ্লুটেন থাকে। অতিরিক্ত গ্লুটেনযুক্ত খাবার স্নায়ুর তন্তুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে পেশির নড়াচড়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়াও ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যাদের গ্লুটেন সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

৪. রেড মিট (লাল মাংস):

এই মাংস খেতে যতই সুস্বাদু হোক না কেন, জয়েন্ট পেইন বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। আপনি যদি ইতিমধ্যেই জয়েন্ট পেইনে ভুগে থাকেন, তবে কম ফাইবার এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। নিয়মিত প্রচুর রেড মিট খেলে পাকস্থলিতে কিছু ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করে। এই ব্যাকটেরিয়া মাংসের কারনিটিন নামক উপাদান ভেঙে ট্রাইমিথাইল্যামিন যৌগে পরিণত করে। এটি রক্তে শোষিত হয়ে লিভারের বিপাক ক্রিয়ায় ভেঙে ট্রাইমিথাইল্যামিন-এন-অক্সাইডে পরিণত হয়, যা প্রদাহ সৃষ্টি করে জয়েন্ট এবং সংবহনতন্ত্রে।

জয়েন্টের ব্যথা কমাতে হলে এই খাবারগুলো ত্যাগ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।