টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া কি মারাত্মক বিপজ্জনক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আপনার স্মার্টফোনে কমোডে থাকা জীবাণুর চেয়েও ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া!

অনেকেই টয়লেটে সংবাদপত্র নিয়ে ঢোকেন, তবে আজকাল সংবাদপত্রের জায়গায় স্মার্টফোন জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির সমস্ত জায়গার মধ্যে সর্বাধিক জীবাণু বাথরুমে পাওয়া যায়। ট্যাপ, হ্যান্ড ড্রায়ার, ডোর ল্যাচ হলো সর্বাধিক জীবাণুযুক্ত স্থান। আপনি যদি টয়লেটেও মোবাইল নিয়ে যান, তবে অভ্যাসের পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার এই বদ অভ্যাস অনেক সংক্রামক রোগের শিকার করতে পারে এবং গুরুতর রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।
স্মার্টফোনে কেন এত বেশি জীবাণু?
দ্রুত বংশবৃদ্ধি: গবেষকরা জানিয়েছেন, টয়লেটের ভিজা পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
জীবাণু স্থানান্তর: ঠিকভাবে হাত না ধোওয়া বা টয়লেট ব্যবহারের সময় সেই জায়গায় মোবাইল রাখার ফলে তাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সালমোনেল্লা (Salmonella), ই.কোলাই (E. coli), সিগেল্লা (Shigella) এবং ক্যামফাইলোব্যাকটরের (Campylobacter) মতো ব্যাকটেরিয়া।
ভাইরাসের ঝুঁকি: ফোনের টাচস্ক্রিনে গ্যাস্ট্রো (Gastro) এবং স্ট্যাপ (Staph)-এর মতো ক্ষতিকর ভাইরাসও জন্মাতে পারে।
ছড়িয়ে পড়া: টয়লেটে ব্যবহারের পর সেই ফোন আমরা বিছানায় বা খাবার জায়গায় রাখি এবং সেখানেও ব্যবহার করি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মোবাইলে বাসা বাঁধা এই ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া খাবারের সঙ্গে লালায় মিশে দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কমোডের চেয়েও ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া: অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, টয়লেট আসনের চেয়ে স্মার্টফোনে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। বাথরুম ব্যবহারের পর আমরা হাত ধুয়ে ফেলি, তবে স্মার্টফোনটি পরিষ্কার করতে ভুলে যাই। ফলস্বরূপ রোগজনিত জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়া ফোনে আটকে থাকে, যা সহজেই সংক্রমণের কারণ হয়।
মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করলেও, সর্বদা এর ব্যবহার মানসিক চাপ দেওয়ার একটি বড় কারণ। আপনি যদি বাথরুমেও ফোনটি ব্যবহার করতে থাকেন, তবে স্ট্রেস এবং হতাশা থাকা স্বাভাবিক। বাথরুমে ফোনটি নিয়ে, আপনি আপনার মন এবং স্বাস্থ্য উভয়ই নিয়ে খেলছেন।
সংক্রমণ এড়াতে কী করবেন?
ফোন বাইরে রাখুন: টয়লেটে যাওয়ার সময় সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো ফোনটি বাইরে রেখে দেওয়া।
পরিষ্কার করুন: যদি প্রয়োজন হয়, তবে ফোনটি পরে অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করুন।
সময় কমান: টয়লেটে খুব বেশি সময় ব্যয় না করার চেষ্টা করুন।