চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কন্টাক্ট লেন্স? ব্যবহারের আগে জানুন জরুরি কিছু কথা!

চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বা দৃষ্টিজনিত সমস্যার সমাধানে কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে, বিভিন্ন রঙের কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। কনের সাজ থেকে শুরু করে ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও লেন্স এখন পছন্দের অনুষঙ্গ।
তবে লেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অন্যথায়, সামান্য অসাবধানতা আপনার চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, এমনকি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। তাই লেন্স পরার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত।
কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার শুরু হয় মূলত বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে। গত কয়েক দশকে এর গুণগত মান যেমন বেড়েছে, তেমনই এর ব্যবহার ও জনপ্রিয়তাও আকাশ ছুঁয়েছে। যেহেতু এই লেন্স সরাসরি চোখের সংস্পর্শে থাকে, তাই এর নাম কন্টাক্ট লেন্স। ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত কৃত্রিম লেন্স (আইওএল) স্থায়ীভাবে চোখের ভেতরে বসানো হয় এবং কন্টাক্ট লেন্সের সাথে এর কোনো মিল নেই।
কন্টাক্ট লেন্সের প্রকারভেদ:
বাজারে মূলত চার ধরনের কন্টাক্ট লেন্স পাওয়া যায়:
হার্ড লেন্স: এটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এবং এর মধ্যে দিয়ে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। তাই এই লেন্স প্রতি চার ঘণ্টা পর খুলে পরিষ্কার করে আবার পরতে হয়। তবে হার্ড লেন্স টেকসই, দামে সস্তা এবং পরিষ্কারও বেশি।
সেমি সফট লেন্স (আরজিপি লেন্স): এই লেন্স অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম, তাই কর্নিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য এটি ভালো। অন্যান্য সুবিধা হার্ড লেন্সের মতোই।
সফট লেন্স: এটিও প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি, তবে এতে জলের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি বেশ নরম এবং আরামদায়ক। হার্ড লেন্সের তুলনায় এটি আকারে বড় হওয়ায় সহজে খুলে পড়ে না। তবে নরম হওয়ায় এটি সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙে যেতে পারে। এই লেন্সের দাম বেশি, কম টেকে এবং খোলার পরপরই সলিউশনে ডুবিয়ে রাখতে হয়।
ডিসপোজেবল লেন্স: বর্তমানে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এটি এক ধরনের সফট লেন্স, যা এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
লেন্স ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:
সফট কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি।
চোখে লেন্স লাগানো বা খোলার আগে হাত খুব ভালোভাবে ধুয়ে ও শুকাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে নখের আঁচড়ে যেন লেন্স ছিঁড়ে না যায়।
সর্বোচ্চ ৮-১০ ঘণ্টা লেন্স পরে থাকা উচিত। ভুল করেও লেন্স পরে ঘুমাবেন না।
ডান ও বাম চোখের লেন্স আলাদাভাবে চিহ্নিত করে রাখুন, যাতে সেগুলি মিশে না যায়।
লেন্স পরা অবস্থায় চোখ ঘষা বা রগড়ানো উচিত নয়।
খোলার পর লেন্স একটি নির্দিষ্ট কৌটায় সলিউশনে ডুবিয়ে রাখুন। প্রতিদিন এই সলিউশন পরিবর্তন করতে হবে এবং কৌটাটিও জল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তবে কখনোই জল দিয়ে লেন্স ধোয়া উচিত নয়।
চোখ লাল হলে, ব্যথা হলে বা ময়লা জমলে লেন্স পরা বন্ধ করে অবিলম্বে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, কন্টাক্ট লেন্সের অনেক সুবিধা থাকলেও এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই চক্ষু বিশেষজ্ঞের নিয়মিত পরামর্শ ছাড়া কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা উচিত নয়।
কাদের জন্য কন্টাক্ট লেন্স প্রযোজ্য নয়:
যাদের চোখে অ্যালার্জি রয়েছে।
যারা বেশি ধুলাবালির মধ্যে কাজ করেন।
মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি।
যারা চোখের যত্নে উদাসীন।
যাদের চোখ বারবার লাল হয় বা জল পড়ে।
যাদের ড্রাই আই সিনড্রোম (শুকনো চোখ) রয়েছে অথবা চোখে মিউকাসের পরিমাণ বেশি।
ডায়াবেটিক রোগী যারা ইনসুলিন গ্রহণ করেন।
লেন্সের দাম:
বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকান, অপটিক্যাল হাউস এবং অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ও রঙের লেন্স পাওয়া যায়। কিছুদিন আগেও একজোড়া লেন্সের দাম ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তবে এখন দাম অনেকটাই কমেছে। এক বছর মেয়াদি সফট লেন্স বর্তমানে ২৫০০-৩৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাওয়া যায়। ডিসপোজেবল লেন্সের দাম ৩-৭ হাজার টাকা এবং কালারড লেন্সের দাম তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, হার্ড লেন্সগুলি তুলনামূলকভাবে সস্তা, যা ৩৫০-১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। কম দামের লেন্স অনেক সময় চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই লেন্স কেনার সময় ভালো ব্র্যান্ড এবং সফট লেন্স দেখে কেনা উচিত।
চোখের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলুন। আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনার চোখকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।