খোসা ছাড়িয়ে ফেলছেন? অজান্তেই হারাচ্ছেন জরুরি পুষ্টি!

সুস্থ থাকতে রোজের খাদ্যতালিকায় ফল ও শাকসবজির গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলি আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায় এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে। তবে ফল ও সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে তবেই এর সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যায়।
আনাজ ও ফলমূল বাড়িতে আনার পর আমরা সাধারণত প্রথমে সেগুলিকে ভালো করে ধুয়ে নিই। তারপর সেগুলি ফ্রিজে সংরক্ষণ করি। রান্না বা খাওয়ার আগে সেগুলির খোসা ছাড়িয়ে নিই। কিন্তু এখানেই ঘটে ভুল! প্রকৃতি যখন একটি ফল বা সবজি তৈরি করে, তখন তার খোসাতেও প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ দিয়ে দেয়।
উদাহরণস্বরূপ, আপেলের টুকটুকে লাল খোসায় থাকে প্রচুর ভিটামিন এ, কে, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়াম। আলুর খোসায় ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন সি বিদ্যমান। গাজর, মুলো, বিট, কুমড়ো, পটলের মতো সবজির খোসায় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি অ্যান্টি অক্সিড্যান্টও ভরপুর থাকে। খাওয়ার বা রান্নার আগে খোসা বাদ দিলে আমরা কত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হারাচ্ছি, তা একবার ভেবে দেখেছেন কি?
ফল ও সবজির খোসায় ভিসকোস ফাইবার নামক এক বিশেষ ধরনের ফাইবার পাওয়া যায়। এই ফাইবার আমাদের খিদে কমাতে সাহায্য করে। পেট যদি দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, তাহলে বার বার খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। শরীরে কম ক্যালোরি প্রবেশ করার অর্থ হলো আপনার ওজনও দ্রুত কমবে। তাই আলু, বেগুন, গাজর, মুলো, বিট, শসা, আপেল, কুমড়ো ইত্যাদির খোসা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। আজকাল ফসল উৎপাদনে প্রচুর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা খাদ্যের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে নানা ক্ষতি করতে পারে। তাই যেকোনো ফল বা সবজি খোসাসমেত খাওয়ার আগে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। সবচেয়ে ভালো হয় বাজার থেকে ফিরে বেকিং সোডা ও জলের মিশ্রণ অথবা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও জলের মিশ্রণে অন্তত ২০ মিনিট আনাজপাতি ডুবিয়ে রাখতে পারলে। এরপর কলের জলে ভালো করে ঘষে ধুয়ে নিন। সবশেষে কিচেন টাওয়েল বা ন্যাপকিন দিয়ে শুকনো করে মুছে নিন। তারপর সেগুলি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। তাজা শাকসবজি দিয়ে স্যালাড তৈরি করুন অথবা সেদ্ধ বা ভাপিয়ে খান—পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
তাই এবার থেকে ফল ও সবজির খোসা বাদ দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এনে দিতে পারে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর জীবন।