আপনার শিশু কি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে? এই লক্ষণগুলি দেখে সতর্ক হোন!

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি পরিচিত হজমজনিত সমস্যা, যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সকলের ক্ষেত্রেই হতে পারে। মূলত খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটির কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা খাদ্য আঁশের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ।

শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষত এক বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে অনেক সময় এটি গুরুতর রূপ নিতে পারে। অনেক অভিভাবকই শুরুতে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা দেখে সহজেই বোঝা যেতে পারে আপনার শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে কি না—

মল ত্যাগে কষ্ট: খেয়াল করুন মল ত্যাগের সময় আপনার শিশু অতিরিক্ত কষ্ট পাচ্ছে কি না। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মল শক্ত হয়ে যায়, ফলে তা সহজে বের হতে চায় না।

শক্ত মল: লক্ষ্য করুন শিশুর মল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্ত কি না। কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত শিশুর মল সাধারণত কঠিন, কালো এবং এমনকি রক্ত примесьও থাকতে পারে।

পেটে ব্যথা ও কান্না: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে শিশুর পেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। সহজে মল বের না হওয়ায় শিশু অস্থির হয়ে কান্নাকাটি করতে পারে।

পেট ফোলা ও অরুচি: এক্ষেত্রে শিশুর পেট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফুলে যেতে পারে এবং পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমার কারণে সে খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে।

অনিয়মিত মল ত্যাগ: কোষ্ঠকাঠিন্য হলে শিশুরা নিয়মিত মল ত্যাগ করে না। সমস্যা গুরুতর হলে ৫-১০ দিনেও শিশু মল ত্যাগ নাও করতে পারে।

শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে যা করণীয়:

শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান। যদি ফর্মুলা দুধ খাওয়ান, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেটি পরিবর্তন করুন।

ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের ফিডারের মাধ্যমে ফলের রস দিতে পারেন।

চার মাসের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ১-২ আউন্স জল পান করাতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের নরম এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান।

শিশুকে মল ত্যাগে সাহায্য করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ধরে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

নিয়মিত শিশুর পা ধরে সাইকেল চালানোর মতো আলতোভাবে ব্যায়াম করাতে পারেন। এতে পেটে গ্যাস জমবে না।

শিশুকে হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করান।

আলতো হাতে শিশুর পেটে ম্যাসাজ করুন। এতে পেটে জমা গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে।

রেকটাল থার্মোমিটার দিয়ে আপনার শিশুর তাপমাত্রা মেপে দেখুন।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত পরিচর্যা শিশুর কষ্ট লাঘব করতে পারে।