ঘুমের ভঙ্গিই ডেকে আনছে অকাল বার্ধক্য! জেনে নিন বলিরেখা এড়ানোর উপায়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা পড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে, অনেককেই কম বয়সেও বয়স্ক দেখাতে শুরু করে, যার অন্যতম প্রধান কারণ আমাদের কিছু অসাবধানতা। ত্বকের সঠিক যত্ন না নেওয়া বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব যেমন বলিরেখার কারণ হতে পারে, তেমনই রাতে ভুলভাবে শোওয়ার অভ্যাসও সময়ের আগেই ত্বকে ভাঁজ ফেলতে পারে।
আমরা প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকি। এই দীর্ঘ সময় ধরে অনেকেরই অভ্যাস থাকে উপুড় হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে ঘুমানো। আবার কেউ কেউ সারা রাত একপাশ ফিরে শোন। ঘুমের এই অভ্যাসের কারণে ত্বকের ওপর দীর্ঘক্ষণ চাপ পড়ে। বিশেষ করে, বালিশের কভার যদি সুতির হয়, তাহলে তা ঘুমের সময় আপনার কোমল ত্বকের সঙ্গে বারবার ঘষা খেতে থাকে। এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে।
শুধু তাই নয়, যাদের ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের ত্বক ঘুমের সময় আরও বেশি আর্দ্রতা হারাতে থাকে। শীতল বাতাস ত্বককে শুষ্ক করে তোলে, যা বলিরেখা formation-এর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এই কারণগুলো একত্রিত হয়ে অল্প বয়সেই ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলতে শুরু করে।
তবে, সচেতন থাকলে ঘুমের অভ্যাসের মাধ্যমেও ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করা সম্ভব। ত্বকের বলিরেখা এড়াতে তাই প্রথমেই আপনার শোওয়ার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন। চেষ্টা করুন সামান্য উঁচু বালিশে সোজা হয়ে শোওয়ার। দুটি বালিশের মাঝে বা হাতের মধ্যে মুখ গুঁজে শোওয়া একেবারেই উচিত নয়।
বালিশের কভারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা জরুরি। সুতির বালিশের কভারের পরিবর্তে স্যাটিন বা সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করতে পারলে তা ত্বকের জন্য অনেক ভালো। সিল্ক বা স্যাটিনের মসৃণ texture ত্বকের সঙ্গে ঘষা কম লাগে এবং ত্বককে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে ত্বকের সঠিক পরিচর্যাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ত্বক পরিষ্কার করে হালকা ময়েশ্চারাইজার মেখে ঘুমান। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।
সুতরাং, কেবল দিনের বেলায় ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না, রাতের ঘুমের অভ্যাস এবং বালিশের কভারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমেই আপনি অকাল বার্ধক্যের হাত থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করতে পারেন এবং ধরে রাখতে পারেন তারুণ্যের দীপ্তি।