দিনভর কাজের চাপ, টেনশন আর স্মার্টফোনের নেশা—সব মিলিয়ে রাতের ঘুম কার্যত উধাও আধুনিক মানুষের জীবন থেকে। আর এই ঘুমের ওষুধ হিসেবে অনেকেই এখন বেছে নিয়েছেন ‘স্লিপ মিউজিক’ (Sleep Music)। ইউটিউব বা স্পটিফায়ে হালকা সুর চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়া এখন অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক নীরব বিপদ।
সঙ্গীত কি সত্যিই ঘুম পাড়ায়?
গবেষণা বলছে, ধীরগতির বা ধ্রুপদী সঙ্গীত মানুষের স্নায়ুকে শিথিল করে। পছন্দের গান শুনলে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা উদ্বেগ কমিয়ে মস্তিষ্ককে বিশ্রামের জন্য তৈরি করে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রেই গান শুনলে দ্রুত ঘুম আসে।
মোবাইল যখন শত্রু
সমস্যাটি গানের মধ্যে নয়, সমস্যাটি হলো ‘মোবাইল’ ব্যবহারের ধরনে। বিশেষজ্ঞরা কেন ঘুমানোর সময় মোবাইল ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন?
-
মেলাটোনিন হরমোনের ঘাটতি: মোবাইলের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) শরীরে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে।
-
ডিপ স্লিপে বাধা: মোবাইলের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি এবং অনবরত নোটিফিকেশনের সংকেত মস্তিষ্ককে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে দেয় না। ফলে আপনি ঘুমিয়ে পড়লেও তা ‘গভীর ঘুম’ বা Deep Sleep হয় না।
সুস্থ ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের টিপস
যদি আপনার গান শুনেই ঘুমোনোর অভ্যাস থাকে, তবে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন: ১. মোবাইল দূরে রাখুন: বালিশের পাশে মোবাইল রেখে গান শুনবেন না। অন্তত ৫-১০ ফুট দূরে ফোনটি রাখুন। ২. স্পিকার ব্যবহার করুন: হেডফোন ব্যবহার না করে ঘরের কোণে ছোট ব্লুটুথ স্পিকারে খুব কম ভলিউমে গান চালান। এতে ফোনের ক্ষতিকর নীল আলো ও রশ্মি আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসবে না। ৩. টাইমার সেট করুন: সারারাত গান না চালিয়ে স্লিপ টাইমার ব্যবহার করুন, যাতে আপনি ঘুমিয়ে পড়ার ১৫-২০ মিনিট পর মিউজিক নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।
মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত ঘুম কেবল শরীরের বিশ্রাম নয়, এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যেরও চাবিকাঠি। তাই প্রযুক্তির সাহায্য নিন, কিন্তু তার দাস হবেন না।