রাতে ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করা আমাদের অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের জন্য মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ট্রানজিয়েন্ট স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস’ বা ক্ষণস্থায়ী অন্ধত্ব।
হিমালয়ান জার্নাল অফ অফথালমোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ধকারে একপাশে কাত হয়ে ফোন ব্যবহার করলে একটি চোখ স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলোর সংস্পর্শে থাকে, আর অন্যটি অন্ধকারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়। ফোন সরিয়ে নেওয়ার পর চোখ দুটি আলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খায়, যার ফলে সাময়িকভাবে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। যদিও এই সমস্যা সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সেরে যায়, তবুও এটি দীর্ঘমেয়াদে চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ ফেলে।
দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি স্মার্টফোনের নীল আলো (Blue Light) ঘুমের জন্য দায়ী মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা অনিদ্রার সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পাতা কম ফেলার কারণে চোখ শুষ্ক ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপদ থেকে বাঁচতে শোবার ঘরে পর্যাপ্ত আলো রাখা জরুরি। পাশাপাশি ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন থেকে দূরে থাকা উচিত। স্মার্টফোন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোখের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করতে রাতে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস আজই পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।





