তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক অভাবনীয় রাজনৈতিক মোড়! সূত্রের খবর, সোমবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। এই বৈঠকের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে—তৃণমূলের সঙ্গে কি সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন ইউসুফ?
কী এই ‘রফা’র সূত্র? রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া ইউসুফ পাঠান এখন বিজেপির সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পথে। শোনা যাচ্ছে, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ পদ ইস্তফা দিতে পারেন তিনি। বিনিময়ে, বিজেপি তাঁকে গুজরাত বা অন্য কোনো বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠাতে পারে। শুধু তাই নয়, বিসিসিআই (BCCI) সচিব জয় শাহের সঙ্গে ইউসুফের সুসম্পর্কের কথা সুবিদিত। সূত্রের দাবি, এই ঘনিষ্ঠতার দৌলতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেও কোনো বড় ও সম্মানজনক পদ পেতে পারেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার।
কেন এই বৈঠক? ইউসুফ পাঠান আদতে গুজরাতের বঢ়োদরার বাসিন্দা। বিসিসিআই সচিব জয় শাহের সঙ্গে ইউসুফ ও তাঁর ভাই ইরফান পাঠানের পারিবারিক সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। মনে করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি: লোকসভায় তৃণমূলের একাংশ সাংসদ যখন বিদ্রোহী ব্লক গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের সাংসদের এই পদক্ষেপ শাসক দলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। ইউসুফের এই রাজনৈতিক ডিগবাজি সফল হলে তা বাংলার রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন দেখার, ইউসুফ পাঠান বহরমপুরের সাংসদ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেন কি না, আর বিজেপির তরফে ঠিক কবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।





