বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ডে ফের শিরোনামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র ডাকা হাজিরা টানা তিনবারের মতো এড়ালেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। হাজিরা না দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সিআইডি-কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং বর্তমানে শহরের বাইরে থাকায় সশরীরে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
অভিষেকের হাজিরা এড়ানো ও সিআইডি-র তৎপরতা: সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি সিআইডি-র সদর দপ্তরে পৌঁছাননি। এই ঘটনার পরপরই সিআইডি-র একটি বিশেষ দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হানা দেয়। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে থাকা তৃণমূলের কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসেও পৌঁছায় ভবানীভবনের প্রায় ৩০ জনের একটি বিশাল টিম, যার মধ্যে মহিলা পুলিশ বাহিনীও ছিল।
রাজনৈতিক তরজা: অভিষেকের এই হাজিরা এড়ানোকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘নেহাত আদালতের বারণ আছে, তাই আপাতত দিল্লি পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। নিষেধাজ্ঞার বাধা না থাকলে তিনি হয়তো দুবাইয়ে থাকতেন। এমন ‘ডিম খেয়ে জ্বর’ এল যে সিআইডি-র ডাকে সাড়া দিতে পারলেন না, কিন্তু ইন্ডিয়া জোটের মিটিং-এ যোগ দিতে পারলেন! আইনের মর্যাদা না দিলে আইন নিজের পথেই চলবে।’’
তৃণমূল পার্টি অফিসে হাইভোল্টেজ ড্রামা: সিআইডি-র দলটি মূলত ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পার্টি অফিসটিকেই পাখির চোখ করেছে। কারণ, বিধানসভার স্পিকারকে পাঠানো সেই বিতর্কিত চিঠিটি এই ঠিকানাতেই তৈরি হয়েছিল এবং লেটারহেডেও এই ঠিকানাই ব্যবহার করা হয়েছে। এদিন পার্টি অফিসে ঢুকতে গেলে সিআইডি-কে বাধা দেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদের পর অবশেষে সিআইডি ভেতরে প্রবেশ করে ভিডিওগ্রাফি শুরু করে। ঘটনাস্থলে একে একে উপস্থিত হন মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মতো তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা।
বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে ব্যস্ত। তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই তদন্ত কতটা এগোয় এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।





