ক্র্যাশ ডায়েট: সুদর্শন হওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে আপনার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য!

দ্রুত ওজন কমানোর মোহে বর্তমানে বহু তরুণ-তরুণী ঝুঁকছেন অনিয়ন্ত্রিত ডায়েট বা ক্র্যাশ ডায়েটের দিকে। বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ না নিয়ে, চটজলদি ফল পাওয়ার আশায় তারা ইন্টারনেট বা বিভিন্ন উৎস থেকে নানা ধরনের চার্ট অনুসরণ করছেন। আর এই প্রবণতাই তাদের স্বাস্থ্যকে ফেলছে চরম বিপদে। চিকিৎসকদের মতে, এর সরাসরি কুপ্রভাব পড়ছে ত্বক ও চুলের ওপর, যা সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন।
কেন ক্র্যাশ ডায়েট বিপদজনক?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক প্রায় ৩০০০ কিলো ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ক্র্যাশ ডায়েটে এই ক্যালরির চাহিদা হঠাৎ করে ৮০০ কিলো ক্যালরিতে নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং এই উপাদানগুলোর মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেয়।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়েটের কুপ্রভাব: ত্বক ও চুলের উপসর্গ
অনিয়ন্ত্রিত ডায়েটের ফলে ত্বক এবং চুলে যে সমস্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
ত্বকের উজ্জ্বলতা হ্রাস ও শুষ্কতা: ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা অনেকটাই কমে যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অল্প বয়সেই ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং বলিরেখাও দেখা দিতে পারে।
ত্বকে দাগ ও রক্তপাত: কারও ত্বকে ছোপ ছোপ কালো বা সাদা দাগ হতে পারে। ঠোঁট ও হাতেও এমন স্পট দেখা যেতে পারে। ত্বকের জালিকা বা ক্যাপিলারি ফেটে রক্তপাতও হতে পারে।
ক্লান্তি ও অনীহা: শরীরে প্রোটিনের জোগান কমে যাওয়ায় চনমনে বা ফুরফুরে ভাব কমে যেতে পারে। কাজে অনীহা এবং ক্লান্তি দেখা দেয়।
ভিটামিনের অভাবে ত্বকের সমস্যা:
ভিটামিন এ-এর অভাবে: রাইনোডার্মা বা টোড স্কিন হতে পারে, যেখানে হাত-পায়ে পদ্মকাঁটার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বা রাইবোফ্লেভিনের অভাবে: ঠোঁট লাল হয়ে থাকে এবং ঠোঁটের কোণ ফেটে যায়।
ভিটামিন বি টুয়েলভের অভাবে: হাতের আঙুলগুলো কালো হয়ে যায় এবং ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়।
ভিটামিন সি-এর অভাবে: হাত-পায়ে ছোপ পড়তে পারে, ত্বক ফেটে রক্তপাত হতে পারে। হাত-পায়ের তালুতে লাল ছোপ ছোপ দেখা যায়।
ভিটামিন বি সিক্স-এর অভাবে: ঠোঁটের কোণে ঘা, জিভ লাল হয়ে যায়। জিভের ক্যাপিলাগুলো বড় হয়ে যায়।
নখের সমস্যা: নখের গ্রোথ কমে যায় এবং নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়। কারও নখে গর্ত বা দাগের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চুলের সমস্যা: ক্র্যাশ ডায়েটের কারণে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি হয়, যার ফলে চুলের ঔজ্জ্বল্য কমতে থাকে। চুল খুব ভঙ্গুর হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে বালিশে বা স্নানের সময় অস্বাভাবিক পরিমাণে চুল পড়ে যাওয়া ক্র্যাশ ডায়েটের একটি সাধারণ উপসর্গ। চুল শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলের স্বাভাবিক রঙেরও পরিবর্তন দেখা যায়। হাত দিয়ে টানলেই চুল পড়ে যাওয়া এই সমস্যার একটি গুরুতর লক্ষণ।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
এই ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণের জন্য মাল্টি-ভিটামিন ট্যাবলেট দেওয়া হয়। কখনও বা ভিটামিনের ঘাটতি গুরুতর হলে, ভিটামিন বি-টুয়েলভ ইঞ্জেকশনও দেওয়া হতে পারে। এই চিকিৎসা কয়েক মাস পর্যন্ত চালানো জরুরি। ত্বক এবং চুলের শুষ্কতা দূর করার জন্য ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পিগমেনটেশন দূর করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহারের কথা বলেন চিকিৎসকেরা।