সোনার গহনা কেনার আগে জেনে নিন ক্যারেটের পার্থক্য, জেনেনিন উপায়

এক সময় সোনা মানেই ছিল সিন্দুকে তুলে রাখা ভারী গয়না। কিন্তু আধুনিক যুগে সোনা এখন কেবল আভিজাত্য নয়, বরং বিনিয়োগ এবং ফ্যাশনের অন্যতম হাতিয়ার। তবে সোনার দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে ডিজাইন দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে এর গুণমান বা ‘ক্যারেট’ (Karat) সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

জুয়েলারি দোকানে গেলে আমরা সাধারণত ১৪ থেকে ২৪ ক্যারেটের সোনা দেখি। কিন্তু কোনটি আপনার জন্য সেরা? জেনে নিন বিস্তারিত:

২৪ ক্যারেট: খাঁটি কিন্তু নরম

এটি সোনার সবচেয়ে বিশুদ্ধতম রূপ (প্রায় ১০০ শতাংশ খাঁটি)। তবে এই সোনা এতটাই নরম যে তা দিয়ে গয়না তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।

  • ব্যবহার: মূলত সোনার কয়েন বা বার হিসেবে বিনিয়োগের জন্য এটি কেনা হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: উজ্জ্বল হলদে আভা, কিন্তু স্থায়িত্ব কম।

২২ ক্যারেট: ঐতিহ্যের সেরা পছন্দ

গয়না তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ২২ ক্যারেট সোনা। এতে ৯১.৬৭ শতাংশ সোনা থাকে এবং বাকি অংশ রূপা বা দস্তা মেশানো হয়।

  • ব্যবহার: বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানের ভারী গয়না তৈরিতে এটিই সেরা।

  • বৈশিষ্ট্য: টেকসই এবং এর উজ্জ্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

১৮ ক্যারেট: হীরে ও পাথরের গয়নার সঙ্গী

যাঁরা আধুনিক ও স্টাইলিশ গয়না পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ১৮ ক্যারেট আদর্শ। এতে ৭৫ শতাংশ সোনা থাকে।

  • ব্যবহার: হীরে (Diamond) বা দামি পাথরখচিত আংটি, পেন্ডেন্ট বা নকশা করা গয়নায় এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: অন্যান্য ধাতুর ভাগ বেশি থাকায় এটি বেশ শক্ত হয় এবং পাথরকে মজবুতভাবে ধরে রাখতে পারে।

১৪ ক্যারেট: ট্রেন্ডি ও টেকসই

এতে সোনার পরিমাণ প্রায় ৫৮.৫ শতাংশ। বাকিটা অন্যান্য ধাতু হওয়ায় এটি অত্যন্ত মজবুত।

  • ব্যবহার: প্রতিদিন ব্যবহারের চেইন, ব্রেসলেট বা আংটির জন্য এটি দুর্দান্ত।

  • বৈশিষ্ট্য: এর দাম তুলনামূলক কম এবং দৈনন্দিন ঘষাঘষিতেও নষ্ট হয় না।

এডিটরস টিপস:

গয়না কেনার সময় অবশ্যই হলমার্ক (Hallmark) দেখে নেবেন। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে হলে ২৪ ক্যারেট এবং ব্যবহারের জন্য হলে ২২ বা ১৮ ক্যারেট বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy